যশোরে হোটেল জাবিরে ২৪ জন নিহত: মেলেনি ৭ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ২৪ জন নিহত হওয়ার মামলায়…
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর অধ্যাপক জিনাত হুদার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জিনাত হুদার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আরও তদন্তের জন্য একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে জিনাত হুদার ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে অভিযোগ ওঠে। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
প্রাথমিক তদন্তের পর বিষয়টি সিন্ডিকেটে উত্থাপন করা হয়। তদন্ত কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে সিন্ডিকেট তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর বিস্তারিত যাচাই করতে ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্তের ফলে তদন্ত চলাকালে অধ্যাপক জিনাত হুদা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তার নিয়মিত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বিধিনিষেধের আওতায় থাকবেন। তবে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত প্রতিবেদন ও পরবর্তী প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অধ্যাপক জিনাত হুদা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নীল দল’-এর ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন জিনাত হুদা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের মধ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, তাদের আন্দোলন দমনে ভূমিকা রাখা এবং আন্দোলনের সময় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
অধ্যাপক জিনাত হুদার বিরুদ্ধেও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিরোধী অবস্থানের অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে এখনো ট্রাইব্যুনালের তদন্ত শেষ হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই জিনাত হুদার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে সাময়িক বরখাস্তের পর এখন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত প্রতিবেদনই তার বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au