বিশ্ব

আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর আরাঘচিদের নিউইয়র্ক ছাড়তে বলেছিলেন রুবিও

  • 4:44 pm - October 01, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৩০ বার
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ ও কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা যখন অচলাবস্থায় পড়েছে, তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে নিউইয়র্ক ছাড়তে বলেছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মার্কিন এক কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন মিশনের মাধ্যমে ইরানি প্রতিনিধিদলের কাছে রুবিওর এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের দ্রুত নিউইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে আরাঘচি ও তার প্রতিনিধিদলের নিউইয়র্ক ছাড়ার সময়টি মূলত আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। ফলে রুবিওর নির্দেশের পরও তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর ত্যাগ করেননি। পরে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আরাঘচি নিউইয়র্ক থেকে দোহার উদ্দেশে রওনা হন।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদক বারাক র‍্যাভিডের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি প্রতিনিধিদলকে নিউইয়র্ক ছাড়তে বলা হলেও ওই সময় তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নতুন আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়নি। বরং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষ হওয়ার পর তাদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল ওয়াশিংটন।

নিউইয়র্ক ছাড়ার আগে আরাঘচির বার্তা

নিউইয়র্ক ছাড়ার আগে আব্বাস আরাঘচি জানান, কাতারের মাধ্যমে ইরানের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েক দফা পরোক্ষ যোগাযোগ হয়। কাতার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করে। পাকিস্তানও কূটনৈতিক যোগাযোগে ভূমিকা রাখছে।

তবে এসব আলোচনায় তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহারসহ একাধিক বিষয়ে দুই পক্ষের অবস্থানের পার্থক্য রয়ে গেছে।

সাত দিনের পরিকল্পনা নিয়ে ইরানের প্রস্তাব

বর্তমান কূটনৈতিক তৎপরতার অন্যতম কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের সাত দিনের একটি প্রস্তাব। তেহরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করা হলে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে এবং এরপর পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বৃহত্তর বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে পারে।

ইরানের প্রস্তাবের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি পুনর্বহালের মতো শর্ত রয়েছে। এরপর এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শর্ত আরোপ করতে পারে না। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বর্তমানে মার্কিন নিরাপত্তার আওতায়ও কিছু তেলবাহী জাহাজ প্রণালিটি দিয়ে চলাচল করছে।

ইরান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব

এর মধ্যেই বুধবার ইরান জানিয়েছে, সাত দিনের পরিকল্পনার বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পেয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির কাছে পৌঁছেছে। দুই পক্ষের আলোচনায় মূল মতপার্থক্যের একটি জায়গা এখন প্রস্তাবের বিভিন্ন পদক্ষেপ কোন ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে, সেটি।

অর্থাৎ, আলোচনায় শুধু কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে সেটিই নয়, বরং কে আগে কী করবে, সেই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তেহরান একদিকে অবরোধ ও সামরিক চাপ কমানোর নিশ্চয়তা চায়, অন্যদিকে ওয়াশিংটন চায় ইরানের কাছ থেকে আগে কিছু বাস্তব পদক্ষেপ।

কাতার এই অচলাবস্থা কাটিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মূলত এর কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণে। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে প্রণালিটির ভৌগোলিক অবস্থানকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও নৌ তৎপরতার লক্ষ্যগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল অব্যাহত রাখাও রয়েছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে প্রণালিটি স্বাভাবিক রাখা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বিষয় নয়, বরং এর সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারও সরাসরি যুক্ত।

ট্রাম্পের ‘গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনার’ ইঙ্গিত

এর মধ্যেই ইরান পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শিগগিরই ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা’ ঘটতে পারে। তবে তিনি ঠিক কী ধরনের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প এর আগে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের কথাও জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন।

সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখছে। তিনি প্রণালিটি দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহনের কথাও উল্লেখ করেন।

তবে ট্রাম্পের ‘গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা’ ঘটার মন্তব্যের সঙ্গে সরাসরি কোনো সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা যুক্ত করা হয়নি। এটি কূটনৈতিক উদ্যোগ, সামরিক পদক্ষেপ অথবা অন্য কোনো সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত কি না, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।

আলোচনার ভবিষ্যৎ কোন দিকে

ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জবাব পৌঁছানোর পরও দুই দেশের মধ্যে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। কাতার এখনো দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। তবে হরমুজ প্রণালি, অবরোধ, নিষেধাজ্ঞা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে মৌলিক মতপার্থক্য রয়েছে।

অন্যদিকে, নিউইয়র্কে ইরানি প্রতিনিধিদলকে দ্রুত চলে যেতে বলার ঘটনা দেখিয়েছে যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট এখনো গভীর। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার অচলাবস্থার পর রুবিওর এই নির্দেশ ছিল দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার একটি কড়া কূটনৈতিক বার্তা।

তবে ইরানি প্রতিনিধিদলকে নিউইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। বরং ইরানের সাত দিনের প্রস্তাবের বিষয়ে মার্কিন জবাব তেহরানে পৌঁছানো এবং প্রস্তাবের বাস্তবায়নের ক্রম নিয়ে আলোচনা চলায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

ফলে সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান শেষ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে কি না, নাকি কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হবে। এ বিষয়ে এখন কাতারের মধ্যস্থতা এবং দুই পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।

সূত্রঃ বিবিসি

এই শাখার আরও খবর

অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা-মাস্টারকার্ডে পেমেন্টে অতিরিক্ত চার্জ বন্ধ

অস্ট্রেলিয়ায় কার্ড দিয়ে পণ্য বা সেবা কেনার সময় এতদিন যে অতিরিক্ত ‘কার্ড সারচার্জ’ দিতে হতো, তা বন্ধ হয়ে গেছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো…

নীতিমালা ভেঙে বাংলাদেশের ১৯ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ফেসবুক পেজে মনিটাইজেশন দিয়েছে মেটা

বাংলাদেশের অন্তত ১৯টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ফেসবুক পেজকে মনিটাইজেশন সুবিধা দিয়েছে মেটা। তবে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কনটেন্ট থেকে আয় করার…

বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অধিকার ও জনগণের কণ্ঠ ফিরিয়ে আনার আহ্বান শেখ হাসিনার

বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জনগণকেই নির্ধারণ করতে হবে এবং জনগণের…

ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, গ্রুপে আর যারা

দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ১৪ দলের এই বিশ্বকাপের মূল পর্বে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ…

যা আছে বিএনপির এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগপত্রে

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় নাম আসার পর জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন।…

নারায়ণগঞ্জে ঘরে ছিটকিনি লাগিয়ে আগুন, স্ত্রী-সন্তানসহ দগ্ধ তিনজন

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ঘরের ছিটকিনি বাইরে থেকে লাগিয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলমগীর নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে তার স্ত্রী, শিশুসন্তান ও শাশুড়ি দগ্ধ হয়েছেন। গুরুতর…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au