মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় হাকালুকি হাওর থেকে ধরা ইলিশ, সঙ্গে অন্যান্য মাছ। ছবি : সংগৃহীত
মিঠাপানির জলাভূমি হিসেবে পরিচিত এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকিতে এবার জেলেদের জালে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। হাওরের পানিতে ইলিশ ধরা পড়ায় অবাক স্থানীয় জেলেরা। অন্যান্য দেশি মাছের সঙ্গে জালে উঠে আসছে ২৫০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ। একই সঙ্গে স্থানীয় হাটবাজারে তুলনামূলক কম দামে মিলছে ইলিশ।
হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত। প্রায় ২৮ হাজার হেক্টর আয়তনের এই হাওর এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় জেলেরা জানান, প্রায় পাঁচ-ছয় বছর আগেও হাকালুকি হাওরে ইলিশ ধরা পড়েছিল। এরপর কয়েক বছর তেমন ইলিশের দেখা মেলেনি। চলতি বর্ষায় আবারও জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে। কয়েক দিন ধরে একাধিক জেলের জালে ছোট আকারের ইলিশ উঠছে।
৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামের ইলিশ :
কুলাউড়া-বড়লেখা-চান্দগ্রাম সড়কের আছুরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন জেলে হাওর থেকে ধরা বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ নিয়ে বসেছেন। এসব মাছের সঙ্গে রয়েছে রুপালি ইলিশ। মাছগুলোর ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত।
কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের জেলে বকুল মিয়া, আজির উদ্দিন, সুবেন্দ্র মালাকার, ছোটন মিয়া ও বোরহান মিয়া বলেন, কয়েক দিন ধরে তারা দলবেঁধে হাওরে বেড়জাল টেনে মাছ ধরছেন। কয়েকবার জাল টানার পর তাতে ইলিশ উঠে আসে। হঠাৎ হাওরের জালে ইলিশ ধরা পড়ায় তারা অবাক ও খুশি।
কুশিয়ারা নদী হয়ে হাওরে :
মৎস্য বিভাগ বলছে, হাকালুকি হাওরের সঙ্গে কুশিয়ারা নদীর সরাসরি সংযোগ রয়েছে। কুশিয়ারা নদী মেঘনা ও পদ্মা নদীর সঙ্গে যুক্ত। বর্ষায় নদী ও হাওরের পানি বাড়ে। এ সময় স্রোতের সঙ্গে ছোট ইলিশ হাকালুকি হাওরে প্রবেশ করে।
কুলাউড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু মাসুদ বলেন, বর্ষাকালে মেঘনা ও কুশিয়ারা নদীর সঙ্গে হাকালুকি হাওরের সংযোগের কারণে প্রায়ই ছোট ছোট ইলিশ হাওরে প্রবেশ করে। এবার স্থানীয় জেলেদের জালে ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে।
উৎপাদনে সম্ভাবনা :
স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তা আবু মাসুদ বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুম এলে মাছগুলো ডিম ছাড়ার জন্য নদীপথে সাগরের দিকে চলে যায়। ফলে বর্ষাকালে হাওরে ইলিশের বিচরণ বাড়ে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হাকালুকি হাওরে ইলিশের উৎপাদন রেকর্ড সৃষ্টি করতে পারে। দেশি মাছের পাশাপাশি ২০১৬, ২০১৯ ও ২০২২ সালেও এখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছিল।