‘গল্পের জাদুকর’ জেফরি আর্চার।
জনপ্রিয় ব্রিটিশ লেখক ও সাবেক রাজনীতিবিদ জেফরি আর্চার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। স্থানীয় সময় সোমবার (৫ অক্টোবর) নিজ বাড়িতে লেখালেখির সময় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে তার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হারপারকলিন্স।
প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ লেখকজীবনে জেফরি আর্চারের বই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তার লেখা বইয়ের ৩০ কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। ‘ক্লিফটন ক্রনিকলস’ ও ‘কেইন অ্যান্ড অ্যাবেল’-এর মতো উপন্যাস তাকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি এনে দেয়। গল্প বলার অসাধারণ দক্ষতার কারণে তিনি পাঠকদের কাছে ‘গল্পের জাদুকর’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
জেফরি আর্চার তার উপন্যাসের পটভূমি হিসেবে প্রায়ই ইংল্যান্ডের সমারসেটের ওয়েলিংটন শহরকে বেছে নিতেন। তার জীবনের সঙ্গে এই এলাকারও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ১৯৪০ সালের ১৫ এপ্রিল উত্তর লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পরে পরিবারের সঙ্গে সমারসেটের ওয়েস্টন-সুপার-মেয়ারে চলে যান। সেখানে তার পরিবার ব্রিটিশ অভিনেতা ও কৌতুকশিল্পী জন ক্লিসের মায়ের কাছ থেকে একটি বাড়ি কিনেছিল।
লেখালেখির পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন জেফরি আর্চার। ১৯৬৯ সালে লিংকনশায়ারের লাউথ নির্বাচনি এলাকা থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান হওয়ার আগে প্রায় পাঁচ বছর এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তবে তার রাজনৈতিক জীবন নানা বিতর্কেও জড়িয়েছে। ১৯৮৭ সালে ‘ডেইলি স্টার’ পত্রিকার বিরুদ্ধে করা একটি মানহানির মামলায় মিথ্যা বলা ও প্রতারণার অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। পরে ২০০১ সালে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টির দায়ে তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর তার রাজনৈতিক জীবন বড় ধাক্কা খায়।
২০০৩ সালে কারামুক্ত হওয়ার পর তিনি হাউস অব লর্ডসে ফিরে যান। ২০২৪ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত সেখানেই দায়িত্ব পালন করেন।
জেফরি আর্চারের মৃত্যুর খবর জানিয়ে হারপারকলিন্স এক বিবৃতিতে তাকে একজন ‘নিপুণ গল্পকথক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তার কাছে পাঠকদের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। তার শেষ বই ‘অ্যাডাম অ্যান্ড ইভ’ চলতি সপ্তাহেই প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ আগেও নিজের শেষ বইয়ের প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন আর্চার। গত সপ্তাহে তিনি নিজের পুরোনো স্কুল ওয়েলিংটন স্কুলে গিয়েছিলেন। সেখানে ফিরে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, পুরোনো স্কুলে ফিরে আসাটা তার কাছে দারুণ অনুভূতির।
শনিবার চেলটেনহ্যাম ফেস্টিভ্যালে নিজের শেষ উপন্যাস নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু তার আগেই চলে গেলেন ব্রিটিশ সাহিত্যের এই জনপ্রিয় লেখক।
হারপারকলিন্স জানিয়েছে, জেফরি আর্চার ও তার স্ত্রী মেরি চলতি বছর তাদের ৬০তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছিলেন। এই দম্পতির দুই ছেলে এবং পাঁচজন নাতি-নাতনি রয়েছে। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে অসংখ্য পাঠককে গল্পের জগতে নিয়ে যাওয়া জেফরি আর্চার তার লেখার মাধ্যমেই বিশ্বজুড়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
সুত্রঃ বিবিসি