দিল্লিতে ভবন ধসে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৩
ভারতের রাজধানী দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সীমাপুরি এলাকায় একটি ভবন ধসে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা…
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছে নয়াদিল্লি। ভারত জানিয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যাবাসনের বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি এবং এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনগত প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবাসন একটি আইনি বিষয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়ে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, নয়াদিল্লি বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী’ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যেই দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টিকে একটি কাঠামোবদ্ধ আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স’ শীর্ষক সেশনে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত কাঠামোবদ্ধ। এর সঙ্গে বিচার বিভাগ ও আদালত সরাসরি যুক্ত থাকায় কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সম্ভব নয়।
২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনার ভারতে যাওয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি দাবি করেন, ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে ভারতে নিয়ে যায়নি এবং তাঁর আগমনের জন্যও দিল্লি আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না।
ত্রিবেদীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সে সময়ের ‘চরম উদ্বেগজনক ও মর্মান্তিক পরিস্থিতির’ মধ্যেই শেখ হাসিনাকে বহনকারী সামরিক উড়োজাহাজ ভারতে পৌঁছায়। তখন তিনি কাগজে-কলমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওই উড়োজাহাজকে ভারতে অবতরণের অনুমতি দেওয়া ছাড়া ভারতের হাতে কার্যত আর কোনো বিকল্প ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে। তবে নয়াদিল্লি বলছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক কেবল তাৎক্ষণিক স্বার্থ বা লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও মানসিক বন্ধন জড়িত।
তিনি বলেন, একজন দায়িত্বশীল প্রতিবেশী সংকটের সময় সবসময় পাশে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সক্ষম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, এই আস্থার ভিত্তিতেই বাংলাদেশ ও ভারতের অংশীদারত্ব আগামী দিনে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au