দুই মাসের কম সময়ে ফের ঢাকায় ভুটানের রাজা, যাত্রাবিরতির আড়ালে কি ঘটছে?
দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবতরণ করেছে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুককে বহনকারী একটি বিমান। শুক্রবার দুপুরে ড্রুক এয়ারের…
সময় গণনার প্রচলিত পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসছে। পৃথিবীর ঘূর্ণন এবং পারমাণবিক ঘড়ির সময়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে কয়েক দশক ধরে যে ‘লিপ সেকেন্ড’ বা অধিবর্ষ সেকেন্ড যোগ করা হতো, তা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে চালু হতে যাচ্ছে নতুন সময় গণনা পদ্ধতি। আগামী ২০ মে ২০২৭ থেকে নিরবচ্ছিন্ন পারমাণবিক সময় গণনা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
১৯৭২ সাল থেকে পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে ঘড়ির সময়ের সামঞ্জস্য বজায় রাখতে নির্দিষ্ট বিরতিতে ঘড়ির সঙ্গে এক সেকেন্ড যোগ করা হতো। সাধারণত প্রায় দেড় বছর পরপর এই সমন্বয় করা হয়েছে। কারণ, পৃথিবী ও সূর্যের গতির তুলনায় পারমাণবিক ঘড়ি অনেক বেশি নির্ভুল ও স্থিতিশীলভাবে সময় ধরে রাখে। পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি সব সময় এক থাকে না বলেই এই পার্থক্য তৈরি হয়।
তবে সময়ের সঙ্গে এক সেকেন্ড যোগ করার এই প্রক্রিয়া কম্পিউটার নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার সুইনবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যালিসন কিলি বলেন, সময়ের এই সমন্বয়ের কারণে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে সময়ের ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য ব্যবস্থায় জটিলতা দেখা দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি পৃথিবীর ঘূর্ণন কিছুটা দ্রুত হওয়ার প্রবণতা দেখা দেওয়ায় সময়ের হিসাব থেকে এক সেকেন্ড বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। অতীতে সময় গণনার ক্ষেত্রে এ ধরনের সমন্বয় করা হয়নি।
মূলত, পারমাণবিক সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করতে যখন একটি অতিরিক্ত সেকেন্ড যোগ করা হয়, তখন কিছু কম্পিউটার ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার সফটওয়্যার সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না। ফলে সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ, এসব ব্যবস্থার অনেকগুলোই স্বাভাবিকভাবে ৬০ সেকেন্ডের মিনিট হিসাব করে, ৬১ সেকেন্ডের নয়।
এ সমস্যা এড়াতে কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। অবশেষে লিপ সেকেন্ড পুরোপুরি বাতিল করে সময় গণনার নতুন পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার প্যারিসে আন্তর্জাতিক ওজন ও পরিমাপ ব্যুরোর ৬৯টি দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। সেখানে ২০২৭ সালের ২০ মে থেকে নিরবচ্ছিন্ন পারমাণবিক সময় গণনা চালুর বিষয়ে ভোটাভুটি হয়।
ব্যুরোর প্রকাশিত সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যোগাযোগ ও পরিবহনসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন পারমাণবিক সময় ব্যবহার করা হলে কার্যক্রম আরও নির্ভরযোগ্যভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, পরিবহন, জ্বালানি বিতরণ, টেলিযোগাযোগ ও মহাকাশ কার্যক্রমের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সময়ের নির্ভুল সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। এসব ব্যবস্থার জন্য ভবিষ্যতে বারবার সময় পরিবর্তন না করে ধারাবাহিকভাবে সমন্বিত বিশ্বসময় (ইউটিসি) বজায় রাখা প্রয়োজন।
নতুন ব্যবস্থায় লিপ সেকেন্ডের পরিবর্তে ‘লিপ আওয়ার’ বা অতিরিক্ত এক ঘণ্টার সমন্বয়ের ধারণা রাখা হয়েছে। পারমাণবিক সময় ও পৃথিবীর ঘূর্ণনভিত্তিক সময়ের মধ্যে পার্থক্য এক ঘণ্টায় পৌঁছালে এই সমন্বয় করা হবে।

লিপ সেকেন্ড যোগ করার সময় কম্পিউটার সফটওয়্যার অনেক ক্ষেত্রে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সমস্যায় পড়ত। ছবি: সংগৃহীত
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পার্থক্য এক ঘণ্টায় পৌঁছাতে হাজার হাজার বছর লেগে যেতে পারে। ফলে আপাতত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এর কোনো দৃশ্যমান প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।
অধ্যাপক অ্যালিসন কিলি বলেন, সাধারণ ঘড়ি কিংবা মোবাইল ফোনের সময় হঠাৎ বদলে যাবে না। অধিকাংশ মানুষই এই পরিবর্তন টের পাবেন না।
অর্থাৎ, সময় গণনার আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এলেও সাধারণ মানুষের ঘড়ি, মোবাইল ফোন কিংবা দৈনন্দিন সময় ব্যবহারে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন আসছে না। বরং কম্পিউটার, যোগাযোগ, পরিবহন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় সময়ের হিসাব আরও নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সূত্র: নিউজ.কম.এইউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au