বাংলাদেশ

দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের নেপথ্যে তুরস্ক-পাকিস্তানের গোয়েন্দা তৎপরতা?

‘বিদেশি গুপ্তচর’ তকমা দিয়ে নতুন বয়ান তৈরির অভিযোগ, তদন্তের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা

  • 5:45 am - October 17, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১২২ বার
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা ওরফে মুক্তা(ডানে) এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) বিজয় দেবাশীষ নারায়ণ পাল(বামে)। ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক দুই কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল বিজয় দেবাশীষ নারায়ণ পালকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ১২ অক্টোবর তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, তাঁরা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে সরকারবিরোধী প্রচার, অর্থ সংগ্রহ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া এবং দেশি–বিদেশি গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন।

তবে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই গ্রেপ্তারের পেছনে কেবল সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নয়, বরং সেনাবাহিনীর ভেতরে বিভাজন তৈরি, শতাধিক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর উদ্যোগ এবং তুরস্ক ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কথিত যোগাযোগের মতো বিষয়ও জড়িত থাকতে পারে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, দুই সাবেক কর্মকর্তাকে ‘বিদেশি গুপ্তচর’ হিসেবে উপস্থাপন করে একটি নির্দিষ্ট বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।

তবে এসব দাবির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে নেই। অন্যদিকে পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছে, সেগুলোরও বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উত্থাপিত দাবিকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন, মঞ্জুর চার দিন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল বিজয় দেবাশীষ নারায়ণ পাল, যাঁর বয়স ৪৭ বছর, এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা, যাঁর বয়স ৪৩ বছর, রাজধানীর পল্লবী ও বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে গোয়েন্দা নজরদারির পর আটক হন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ অক্টোবরের আগের রাতে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কর্মকর্তারা তাঁদের আটক করেন। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাঁদের গ্রেপ্তার দেখায়।

সোমবার বিকেলে তাঁদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দিদারুল আলম তাঁদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পল্লবী থানায় দায়ের করা মামলাটিতে দুই সাবেক কর্মকর্তার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০১ জনকে আসামি করা হয়েছে। ডিবির পল্লবী জোনাল দলের পরিদর্শক মোহাম্মদ আলী আকবর মামলাটি করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, দুই সাবেক কর্মকর্তা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে দেশি–বিদেশি গুপ্তচরদের যোগাযোগ ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের গতিবিধি, ফোনকল ও হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল বলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তদন্তে পাঁচটি বিষয় খতিয়ে দেখার কথা

আদালতে জমা দেওয়া রিমান্ড আবেদনে তদন্তের স্বার্থে পাঁচটি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রথমত, মামলার অন্য আসামিদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ করা দেশি–বিদেশি ব্যক্তিদের পরিচয় ও অবস্থান নির্ধারণ করা। তৃতীয়ত, ডিজিটাল আলামত সংগ্রহ করা। চতুর্থত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহৃত অন্যান্য ওয়েবসাইট ও পেজ শনাক্ত করা। পঞ্চমত, মামলার মূল ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উদ্‌ঘাটন করা।

পুলিশের অভিযোগ, দুই সাবেক কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচার চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতেন। তাঁদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দিতে পারে এমন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্যদের সম্পৃক্ততা, অর্থের উৎস এবং কথিত দেশি–বিদেশি যোগাযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। তবে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট আলামত পাওয়া গেছে, তা নিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন।

দুটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ঘিরে পুলিশের অভিযোগ

ডিবিসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার দুই সাবেক কর্মকর্তা ও তাঁদের সহযোগীরা ‘Bangladesh Awami League Supporters Alpha Number #1’ এবং ‘BBM Transparency’ নামে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পুলিশের অভিযোগ, এসব গ্রুপ ব্যবহার করে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হতো এবং উসকানিমূলক প্রচার চালানো হতো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতা উসকে দিতে পারে এমন ডিজিটাল কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও তাঁদের বিরুদ্ধে রয়েছে।

এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্যোগে গঠিত ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ নামের দুটি প্ল্যাটফর্মের কথাও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হতো। প্রতিবেদনে এসব নেতার কয়েকজনকে পলাতক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

পুলিশের অভিযোগ, এসব যোগাযোগের উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করা এবং সংগঠিত রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কী কী সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে, তা আদালতে উপস্থাপিত নথির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ছাড়া স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়।

ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট নিয়ে অভিযোগ

রিমান্ড আবেদনে ‘KalAjKal.com’ নামের একটি ফেসবুক পেজের উল্লেখ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, এই পেজ ব্যবহার করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দিতে পারে এমন কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা হয়েছে।

এ ছাড়া কাজী গুলশান আরার নামে নিবন্ধিত একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচার চালানো হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে দুই সাবেক কর্মকর্তা ও তাঁদের সহযোগীরা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ও মানহানিকর প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। তাঁরা দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন পেশা ও সামাজিক গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দাঙ্গা, সংঘর্ষ ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা প্রকাশ এবং বিভিন্ন টেলিভিশন টক শোতে অংশ নেওয়ার বিষয়ও অভিযোগের মধ্যে আনা হয়েছে।

তবে টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বা সরকারের সমালোচনা করার কোন বক্তব্যকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন গুলশান আরার আইনজীবী।

২০১৮ সালে গণভবনে যাওয়ার প্রসঙ্গ

রিমান্ড আবেদনে দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার রাজনৈতিক যোগাযোগের প্রসঙ্গ হিসেবে ২০১৮ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। সে সময় অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের একটি দল গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে যান। সেখানে তাঁরা শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য ও সমর্থন প্রকাশ করেন। ওই ঘটনা সে সময় সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছিল।

পুলিশের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে ১০১ জন সহযোগীকে নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন গঠন করা হয় এবং গ্রেপ্তার দুই সাবেক কর্মকর্তা এর কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

তবে ২০১৮ সালে গণভবনে গিয়ে রাজনৈতিক সমর্থন প্রকাশের ঘটনা এবং বর্তমান মামলায় আনা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের মধ্যে কী ধরনের প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে, তা প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

সেনাবাহিনীতে বিভাজন তৈরির ষড়যন্ত্রের দাবি

প্রতিবেদনের সবচেয়ে আলোচিত দাবিগুলোর একটি হলো, সেনাবাহিনীর ভেতরে বিভাজন তৈরি এবং শতাধিক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর একটি পরিকল্পনা চলছিল।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ১ অক্টোবর ঢাকা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত কথিত ‘মিনি দরবারে’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপদ ও নিশ্চিত প্রত্যাবর্তন নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে একটি ধারণা তৈরি হওয়ার পর সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী এবং হাসিনুর রহমান সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেন।

আমান আযমী জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে। প্রতিবেদনে তাঁকে এবং হাসিনুর রহমানকে সামরিক আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া সাবেক কর্মকর্তা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে এই দুই ব্যক্তি ঢাকায় অবস্থানরত তুরস্ক ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘন ঘন বৈঠক করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতপন্থী হিসেবে বর্ণিত শতাধিক কর্মরত সামরিক কর্মকর্তাকে একই সময়ে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

প্রতিবেদনটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই কথিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষকে গ্রেপ্তার করে পেশাদার সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি এবং তাঁদের লক্ষ্যচ্যুত করার চেষ্টা করা হতে পারে।

তবে তুরস্ক ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আমান আযমী ও হাসিনুর রহমানের কথিত বৈঠক কিংবা শতাধিক সেনা কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর পরিকল্পনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।

তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জামায়াত–ঘনিষ্ঠ বলে বর্ণিত অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের একটি অংশ আমান আযমীর নেতৃত্বে তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এবং সাবেক প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম নতুন পরিকল্পনা তৈরির উদ্দেশ্যে ঘন ঘন তুরস্ক সফর করছেন। গত সপ্তাহে তাজুল ইসলাম ইস্তাম্বুলে ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটির দাবি, আমান আযমী ও হাসিনুর রহমানের চাপের মুখে কথিত ষড়যন্ত্রের তৎপরতা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের জামায়াতে ইসলামী ও পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিজিএফআইয়ের মেজর মহিউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কর্মকর্তারা ১২ অক্টোবর দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে আটক করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে তাঁদের ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রতিবেদনটি এই অভিযানকে সাজানো অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে, যদিও এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ সেখানে দেওয়া হয়নি।

‘বিদেশি গুপ্তচর’ বয়ান তৈরির অভিযোগ

প্রতিবেদনটির ভাষ্য অনুযায়ী, দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগগুলো সরকারবিরোধী প্রচার, অর্থ সংগ্রহ, রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং সংগঠিত কর্মকাণ্ড ঘিরে। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ বা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, এমন তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

তা সত্ত্বেও তাঁদের ‘বিদেশি গুপ্তচর’ হিসেবে উপস্থাপন করার একটি বয়ান তৈরি হচ্ছে বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর বিকেলে ডিজিএফআইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে বর্ণিত প্রবাসী এক ব্যক্তি ফেসবুকে দাবি করেন, ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে আগের দিন মধ্যরাতের দিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ব্যক্তি কাজী গুলশান আরাকে ‘হানিট্র্যাপার’ বলেও আখ্যা দেন।

‘হানিট্র্যাপার’ বলতে সাধারণত ব্যক্তিগত বা রোমান্টিক সম্পর্কের প্রলোভন ব্যবহার করে গোপন তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত ব্যক্তিকে বোঝানো হয়। তবে গুলশান আরার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলশান আরা ২০০৬ সালে স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন এবং বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করেন। তাঁকে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত বলেও বর্ণনা করা হয়েছে।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আশঙ্কা, তাঁকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করা এবং বাংলাদেশে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে জড়ানোর একটি বয়ান তৈরি হতে পারে। তবে এটি প্রতিবেদকের আশঙ্কা, আদালতে প্রমাণিত কোনো ঘটনা নয়।

সেনাবাহিনীর সংবেদনশীল পদে দায়িত্ব পালনের প্রসঙ্গ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ আগে ডিজিএফআই এবং আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের সংবেদনশীল পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই যোগাযোগই তাঁর গ্রেপ্তারের অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২২ সালে দেবাশীষ বারুয়াকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরও তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিলেন বলে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটিকে প্রতিবেদনে অবিশ্বাস্য বয়ান হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর আজিজ আহমেদ বাংলাদেশ ছেড়ে গেলেও দেবাশীষ দেশে অবস্থান করে তাঁর সঙ্গে এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বর্ণিত সাবেক ও কর্মরত সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছিলেন।

অন্যদিকে কাজী গুলশান আরা ২০০৬ সালে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৯ সালে তাঁকে চার মাসের জন্য সব সেনানিবাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিবেদনে গুলশান আরার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি বিদেশি গুপ্তচরদের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে সমন্বিত নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন।

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা অতীতে ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে গুলশান আরার রাওয়া ক্লাবে (RAOWA Club) অবাধ প্রবেশাধিকার ছিল এবং তিনি যেকোনো সময় সেনানিবাসে প্রবেশ করতে পারতেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি এই সুযোগ ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তর থেকে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

এ ছাড়া তাঁর মালিকানাধীন একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার সুযোগ ছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি তিনি ভারতীয় হাইকমিশনে একজন কর্মকর্তার সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। তবে বৈঠকটির তারিখ, আলোচনার বিষয়বস্তু কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ফলে এ ঘটনাকে গুপ্তচরবৃত্তির প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

আইনজীবীদের প্রশ্ন, অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ভিত্তি কোথায়?

আদালতে রিমান্ড শুনানির সময় দুই সাবেক কর্মকর্তার আইনজীবীরা পুলিশের অভিযোগের বিরোধিতা করেন।

গুলশান আরার আইনজীবী মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, একটি টেলিভিশন টক শোতে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁর মক্কেলকে দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু অনুষ্ঠানে তিনি ঠিক কী বলেছেন, যার মাধ্যমে দেশ অস্থিতিশীল হতে পারত, তা কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা করেনি বলে তিনি দাবি করেন।

রিমান্ড আবেদনেও তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে কী ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে, তা উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন এই আইনজীবী।

দেবাশীষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মনসুর অভিযোগগুলোকে অগ্রহণযোগ্য বলে বর্ণনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রদ্রোহ–সম্পর্কিত মামলা করা হলেও রিমান্ড আবেদনে কথিত অপরাধের প্রকৃতি কিংবা অভিযোগ আনার সুনির্দিষ্ট ভিত্তি ব্যাখ্যা করা হয়নি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন–অর–রশিদ দাবি করেন, অভিযুক্তরা ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে কাজ করছিলেন। তাঁদের সঙ্গে দেশি–বিদেশি গুপ্তচরদের যোগাযোগ রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি ছিল, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তদন্তসংশ্লিষ্ট আরও তথ্য পাওয়া যাবে এবং অন্যদের সম্পৃক্ততা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

কোন আইনে মামলা?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পল্লবী থানায় দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধি, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের বিভিন্ন ধারার প্রয়োগ করা হয়েছে। কথিত অবৈধ অর্থায়নের উৎস শনাক্ত করার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অর্থের উৎস, ডিজিটাল প্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং দেশি–বিদেশি যোগাযোগের বিষয়গুলো যাচাই করা প্রয়োজন।

তবে মামলায় যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে কোনটি ডিজিটাল আলামত, কোনটি আর্থিক লেনদেন এবং কোনটি গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

জামায়াতের ভূমিকা ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রসঙ্গ

প্রতিবেদনের আরেকটি অংশে দাবি করা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী ডিসেম্বরের আগে আওয়ামী লীগকে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দলটিকে সংগঠন হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সময়ে শতাধিক সামরিক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এসব তৎপরতার সঙ্গে দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার গ্রেপ্তারকে যুক্ত করে একটি নতুন ‘বিদেশি গুপ্তচর’ বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনের বক্তব্য।

তবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কথিত উদ্যোগ, জামায়াতের ভূমিকা, তুরস্ক ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং সেনাবাহিনীর ভেতরে বিভাজন তৈরির অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি। এসব দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল, গোয়েন্দা সংস্থা বা সরকারি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও সেখানে অন্তর্ভুক্ত নেই।

গ্রেপ্তারের নেপথ্যে কী?

দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার গ্রেপ্তারকে ঘিরে মূলত দুটি ভিন্ন বয়ান সামনে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য, তাঁরা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে অর্থ সংগ্রহ, সরকারবিরোধী প্রচার, উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি এবং দেশি–বিদেশি ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন।

অন্যদিকে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই গ্রেপ্তারকে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামরিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনীর ভেতরে বিভাজন তৈরির কথিত উদ্যোগ, শতাধিক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর পরিকল্পনা এবং তুরস্ক ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তার কথিত যোগাযোগ।

সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ

এই শাখার আরও খবর

দুই মাসের কম সময়ে ফের ঢাকায় ভুটানের রাজা, যাত্রাবিরতির আড়ালে কি ঘটছে?

দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অবতরণ করেছে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুককে বহনকারী একটি বিমান। শুক্রবার দুপুরে ড্রুক এয়ারের…

‘মব’ তকমায় যেভাবে আড়াল হচ্ছে পরিকল্পিত অপরাধ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ। এরপর ফেসবুক লাইভে মানুষকে জড়ো হওয়ার আহ্বান। অভিযোগের সত্যতা যাচাই কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের…

তারেক রহমানকে সরিয়ে ‘মাইনাস টু’ পরিকল্পনা, সক্রিয় ‘ডিপ স্টেট’?

সেনাবাহিনী ও সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে সম্ভাব্য বিশেষ বৈঠকের খবর ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা।…

আইএমএফের ঋণের শর্ত বাস্তবায়নে বাড়তি চাপের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

ঋণচুক্তি চূড়ান্ত করতে আগামী সপ্তাহে আলোচনা শুরু করবে বাংলাদেশ ও আইএমএফ। বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সামলানো ও উন্নয়ন সহযোগীদের আস্থা ধরে রাখার সুযোগ থাকলেও রাজস্ব সংস্কার,…

নিশ্চিন্তে উৎসব করুন, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের…

মাধবপুরে মেয়র প্রার্থী বাদলকে কুপিয়ে জখম, অবস্থা সংকটাপন্ন

হবিগঞ্জের মাধবপুরে পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ও বিএনপির তরুণ দলের উপজেলা আহ্বায়ক বাদল পাঠানকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর)…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au