বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, হত্যাকাণ্ড, ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাঙচুর এবং সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর নির্যাতনের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ইউএসএ। সংগঠনটির প্রকাশিত একটি তথ্যচিত্রে হিন্দু জনসংখ্যার হার কমে যাওয়া, বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার অভিযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবাদ কর্মসূচির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
তথ্যচিত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যার হার ১৯৫১ সালে ২২ শতাংশ ছিল, যা ২০২২ সালে কমে ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে ১৯৬১ সালে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ, ১৯৭৪ সালে ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ, ১৯৮১ সালে ১২ দশমিক ১ শতাংশ, ১৯৯১ সালে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০০১ সালে ৯ দশমিক ২ শতাংশ এবং ২০১১ সালে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ হিন্দু জনসংখ্যার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটির তথ্যচিত্রে বিভিন্ন সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২২ আগস্ট রংপুর জেলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগমী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। একই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় এক হিন্দু নারীকে নিজ বাড়িতে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর হিন্দু পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে মারধরের পর গাছে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তথ্যচিত্রে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা এবং চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের বৌদ্ধ বিহার ও বাড়িঘরে হামলার অভিযোগও স্থান পেয়েছে। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের ফলাফল কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তথ্যচিত্রে দেওয়া হয়নি।
সংগঠনটির উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৫২২টি হামলা বা ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুরো ২০২৫ সালে এ ধরনের ঘটনা ও হামলার সংখ্যা ২ হাজার ১৮৪ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৪ থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে ২৩ জন হিন্দু নিহত, ৬৯টি মন্দিরে হামলা এবং ১ হাজার ৭০৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম দিকে ২০টি ধর্ষণের অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। এসব সংখ্যা সংগঠনটির প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে এবং এগুলোর স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটি রংপুরের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের এবং কোনো সরকারি কর্মকর্তা জড়িত থাকলে তাঁদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং বিচারব্যবস্থায় পক্ষপাত দূর করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।
তথ্যচিত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সংগঠনটির বিভিন্ন কর্মসূচির ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ‘ইয়াহিয়া থেকে ইউনূস’ শীর্ষক আলোচনা, ২০২৬ সালে ‘নির্যাতনে কেউ জয়ী হয় না’ শিরোনামে একটি সেমিনার এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনস্যুলেট কার্যালয় ও জাতিসংঘের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির ছবি রয়েছে।
প্রতিবেদনটি সংগঠনটির প্রকাশিত তথ্যচিত্রে থাকা তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে তৈরি। এতে উল্লিখিত পরিসংখ্যান ও ঘটনাগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে, এমন দাবি করা হচ্ছে না।