বিক্ষোভ-সহিংসতা মোকাবিলায় ফ্রান্সে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন
ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ ও সম্ভাব্য সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার। শনিবারের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ২৪ অক্টোবর থেকে দেশটির…
প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাপান সফরের আগে টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে ঢাকায় ফিরিয়ে এনেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় এই সফরে তাঁকে অংশ না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম টোকিওতে অবস্থান করে সফরের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা তদারক করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সম্প্রতি রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হাজির হতে বলা হয়। এরপর তিনি টোকিও থেকে ঢাকায় ফিরে আসেন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালনে সচিব মো. নজরুল ইসলাম গত বুধবার ঢাকা থেকে টোকিওর উদ্দেশে রওনা হন। প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করবেন। রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীর পরিবর্তে সফরসংক্রান্ত প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা তদারক করবেন তিনি।
তবে জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরিয়ে এনে প্রধানমন্ত্রীর সফরে অংশ না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কারণ সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকদের মতে, উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সফরের আগে সংশ্লিষ্ট দেশে দায়িত্ব পালনরত রাষ্ট্রদূতকে সফরে অংশ না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। সাধারণত সফর প্রস্তুতি, আয়োজক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ, বৈঠকের সমন্বয় এবং প্রটোকল ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ঘিরেও টোকিওতে সরকারি কর্মসূচিগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীর অংশগ্রহণের প্রয়োজন না হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরিয়ে আনার সঙ্গে তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালনের কোনো অসংগতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসায় সিদ্ধান্তটি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, জ্বালানি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তা দিয়ে আসছে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের সফরগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।
এমন একটি সফরের ঠিক আগে জাপানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা এবং তাঁকে সফরে অংশ না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার ঘটনা তাই বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।
গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ওয়েবসাইটে মো. দাউদ আলীকেই জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্তের পরও রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাঁর আনুষ্ঠানিক অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রদূতকে সাময়িকভাবে দেশে ডেকে পাঠানো এবং রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে প্রত্যাহার করা এক বিষয় নয়। এ ক্ষেত্রে দাউদ আলীকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক কারণ বা তাঁর দায়িত্বের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
মো. দাউদ আলী বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। ১৯৯৫ সালের নভেম্বরে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। প্রায় তিন দশকের কূটনৈতিক কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
জাপানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে তিনি রোমানিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। একই সময়ে মলদোভা, উত্তর মেসিডোনিয়া ও বুলগেরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২০ সালের মার্চে তাঁকে রোমানিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে চীনের কুনমিংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দাউদ আলী।
তাঁর দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালনের ইতিহাসের কারণে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে তাঁকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তাঁর পেশাগত কর্মদক্ষতা, দায়িত্ব পালনে কোনো সমস্যা কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এমন কোনো তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
চলতি বছরের ২৬ ডিসেম্বর তাঁর অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাঁর দীর্ঘ সরকারি কর্মজীবনের শেষ পর্যায় ঘনিয়ে এসেছে।
রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীর পরিবর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম টোকিওতে অবস্থান করে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা তদারক করছেন। সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করাই তাঁর দায়িত্ব বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে রাষ্ট্রদূতকে বাদ দিয়ে সচিবকে সরাসরি দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে কী বিবেচনা কাজ করেছে, তা জানা যায়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেয়নি।
আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। আপাতত রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী ঢাকায় অবস্থান করছেন, আর সফরসংক্রান্ত প্রস্তুতি তদারক করতে সচিব মো. নজরুল ইসলাম টোকিওতে রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সফরের আগে এমন সিদ্ধান্তের কারণ এবং জাপানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষা রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au