অস্ট্রেলিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবতে থাকা গাড়ি থেকে চালককে বাঁচালেন সাংবাদিক
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে বন্যার পানিতে ডুবে যেতে থাকা একটি গাড়ি থেকে চালককে উদ্ধার করেছেন টেলিভিশন সাংবাদিক উইল মারে ও এক পথচারী। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঘটে…
ফ্রান্সে আবারও বিক্ষোভ ও সহিংসতার আশঙ্কায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করছে দেশটির সরকার। গত শনিবারের সহিংসতা ও লুটপাটের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, বিভিন্ন শহরে সমাবেশে বিধিনিষেধ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুক্রবার শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
এর আগে কেবল নিবন্ধিত শ্রমিক সংগঠনগুলোর বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে ম্যাক্রোঁর ঘোষণার পর শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র সমালোচনা দেখা দেয়। জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নানা অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে গত সপ্তাহে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেয় এবং বিভিন্ন স্থানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে রাজধানী প্যারিসে রাতের চলাচলে বিধিনিষেধ সোমবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মার্সেই ও লিওঁ শহরেও সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা, রাতের চলাচলে বিধিনিষেধ এবং গণপরিবহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ ওঠার পর এবার আগের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে।
ম্যাক্রোঁর কার্যালয় বিক্ষোভে বামপন্থি উগ্রবাদীদের সহিংসতার জন্য দায়ী করেছে। প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের বৈঠকের পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও পদক্ষেপ ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।
তবে সরকারের বিধিনিষেধ সত্ত্বেও ফ্রান্সের প্রধান শিক্ষার্থী ইউনিয়ন ইউএনইএফ আগামী শনিবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৮ সালে আলোচিত সরকারবিরোধী ‘হলুদ জ্যাকেট’ আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরাও প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে পদযাত্রার পরিকল্পনা করেছে।
শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে ম্যাক্রোঁর বৈঠকের কথা থাকলেও ইউএনইএফ জানিয়েছে, তাদের কর্মসূচি বহাল থাকবে। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, ম্যাক্রোঁ প্রতিবাদের স্বাধীনতা খর্ব করছেন এবং প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধের পরিপন্থী পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কায় বড় শহরগুলোর বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার বন্ধ থাকবে ঐতিহাসিক লুভর জাদুঘর ও লুই ভিটন ফাউন্ডেশন। এ ছাড়া ‘আর্ট বাসেল’ শিল্পকলা মেলা নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে, শুক্রবার শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্সের বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবারের সহিংসতার পর থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজার ৭০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নতুন করে বিক্ষোভের ডাক এবং সরকারের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে দেশটির বড় শহরগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au