অস্ট্রেলিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবতে থাকা গাড়ি থেকে চালককে বাঁচালেন সাংবাদিক
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে বন্যার পানিতে ডুবে যেতে থাকা একটি গাড়ি থেকে চালককে উদ্ধার করেছেন টেলিভিশন সাংবাদিক উইল মারে ও এক পথচারী। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঘটে…
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে আঞ্চলিক সংগঠনের অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোলাগুলি ও সংঘর্ষের পর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে বাড়িঘর ও দোকানপাট ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আটকে পড়া প্রায় তিন হাজার পর্যটককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এতে পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার অবরোধকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষের পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ শুক্রবার রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দেয়। ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের জনজীবন, যোগাযোগব্যবস্থা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গোলাগুলির ঘটনায় সেনাবাহিনীর দাবি, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে পালটা গুলি চালানো হয়। তবে ইউপিডিএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনী একতরফাভাবে গুলি চালিয়েছে। অবরোধকারী সংগঠনগুলোকে বিভিন্ন মহল থেকে ইউপিডিএফ-ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করা হলেও ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারা প্রথম গুলি চালিয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
জনশূন্য গঙ্গারাম, শুক্রবারও অবরোধ
বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর সাজেকের গঙ্গারাম এলাকায় জনশূন্য পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ বাড়িঘর ও দোকানপাট ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবারও সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলেছে। সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকলেও শুক্রবার কোথাও নতুন করে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব জানিয়েছেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে।
পর্যটন বন্ধ, বড় ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা
নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে।
এতে রিসোর্ট, কটেজ, পরিবহন, রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষ আর্থিক সংকটে পড়েছেন। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বর্তমানে পর্যটনের ভরা মৌসুম হওয়ায় অবরোধ ও ভ্রমণ বন্ধের সিদ্ধান্তে সব বুকিং বাতিল করে পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। এতে প্রায় ২০ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যটকবাহী জিপ চলাচল করত। অবরোধের কারণে সেগুলো এখন বন্ধ রয়েছে। শুধু পর্যটন ব্যবসাই নয়, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং জুমের ফসলসহ স্থানীয় কৃষিপণ্য বাজারজাত করাও ব্যাহত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়েছেন। কটেজ মালিকদের পাশাপাশি পরিবহন খাত, রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকাও সংকটে পড়েছে। একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন সাজেক পর্যটন ভ্যালির কুঁড়েঘর রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী যতেন ত্রিপুরা।
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাজেক খুলে দেওয়ার দাবি
পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেওয়ার দাবিতে শুক্রবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ব্যবসায়ীরা। খাগড়াছড়ি জেলা শহরের সরকারি কলেজ গেটের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমা বলেন, পর্যটন এ অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। পর্যটন বন্ধ থাকলে অনেক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। তাই দ্রুত সাজেক খুলে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ই-ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সদস্য উজ্জ্বল দে বলেন, আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধের কারণে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দ্রুত অবরোধ প্রত্যাহার না করা হলে বড় ধরনের আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
সব মিলিয়ে সাজেকে অবরোধ, গোলাগুলি ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে স্থানীয় মানুষের জীবিকা, পণ্য পরিবহন এবং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au