অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাপার দুর্গাপূজার ২০ বছর
ওটিএন বাংলা, ক্যানবেরা: দেবীর আরাধনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আর প্রজন্মের মেলবন্ধনে দুর্গাপূজা আয়োজনের দুই দশক উদ্যাপন করল বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া পূজা অ্যাসোসিয়েশন—বাপা। ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর ক্যানবেরায়…
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ঐতিহাসিক চতুর্থ মেয়াদে জয়ী হওয়ার পরও পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে নির্বাচনের ফল বাতিলের আবেদন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নির্বাচনী ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্কের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রোববার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। ভোট গ্রহণের সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, যে পরিস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে ফল মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তবে লুলার কাছে চার মিলিয়নেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ায় ফল বাতিলের প্রচেষ্টা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুলার নিয়োগ দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি রোববার রাতে ভোটারদের পরিবহনসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভোট গ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এ সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফ্লাভিও সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে পরিস্থিতিতে সবকিছু ঘটেছে, তাতে নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া অসম্ভব।’
তিনি জানান, নির্বাচনের ফল বাতিলের আবেদন করবেন। তবে ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর বিষয়ে তাঁর নিজের নির্বাচনী শিবিরের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, রক্ষণশীলদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে ভোটের সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিল বলসোনারোর শিবিরও।
ফ্লাভিওর পরাজয় স্বীকার না করার অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রাজিলের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যানের এই অবস্থান দেশটিতে নতুন করে বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা উসকে দিতে পারে।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে জয়ী বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ছবিঃ রয়টার্স
২০২২ সালের নির্বাচনের পর সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর সমর্থকেরা নির্বাচনের ফলের প্রতিবাদে সরকারি ভবনগুলোতে হামলা চালিয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর ব্রাজিল গভীর গণতান্ত্রিক সংকটে পড়ে। পরে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে জইর বলসোনারোকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এবার তাঁর ছেলে ফ্লাভিওর নির্বাচনী ফল প্রত্যাখ্যানের অবস্থান সেই রাজনৈতিক সংঘাতের স্মৃতি আবার সামনে এনেছে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর আর্থিক বাজারেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ব্রাজিলের বভেসপা সূচক অনুসরণকারী টোকিওতে তালিকাভুক্ত একটি এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডের দর এশিয়ার বাজারে প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যায়। বিশ্লেষকেরা মার্কিন ডলারের বিপরীতে ব্রাজিলের মুদ্রা রিয়ালের দর কমার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন। নির্বাচনের প্রথম দফায় লুলা পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় দফার ভোটে সমর্থকদের সংগঠিত করে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
জয়ের পর রোববার রাতে সাও পাওলোর একটি হোটেলে বক্তব্য দেন লুলা। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি সমঝোতার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জাতীয় ঐক্যের কথা বলব না, কারণ সব সময় তা এই দেশের বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে সবাই পছন্দ করতে বাধ্য নন। কিন্তু তাঁকে সবার জন্য দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে নিজের আগের মেয়াদগুলোর সাফল্যকে নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্ব দিয়েছিলেন লুলা। পাশাপাশি বেকারত্ব, নিরক্ষরতা ও বন উজাড়ের হার কমার বিষয়টিও তুলে ধরেছিলেন তিনি। তবে চতুর্থ মেয়াদে তাঁকে বেশ কিছু কঠিন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
নির্বাচনে ডানপন্থীদের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে দেশটির কংগ্রেসে বলসোনারোর সমর্থক ও মিত্রদের প্রভাব বেড়েছে। ফলে আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং সরকারের বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়নে লুলাকে বিরোধী আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে।
সাও পাওলোর ইনস্পার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক কার্লোস মেলো বলেন, ‘চ্যালেঞ্জের সংখ্যা অগণিত।’
ফলে নির্বাচনে জয় পেলেও লুলার সামনে এখন বড় পরীক্ষা হলো বিভক্ত রাজনৈতিক পরিবেশে সরকার পরিচালনা করা, কংগ্রেসের সঙ্গে কার্যকর সমঝোতা গড়ে তোলা এবং তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা। অন্যদিকে ফ্লাভিও বলসোনারোর ফল প্রত্যাখ্যানের অবস্থান ব্রাজিলের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ায় কি না, তা-ও এখন পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au