এনএসআই-এর মহা পরিচালক মেজর জেনারেল মহম্মদ সারওয়ার ফরিদ। ছবিঃ সংগৃহীত
বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবু মোহাম্মদ সারওয়ার ফরিদের দিল্লি সফরকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সরবরাহ করা প্রতিবেদনের দাবি, দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, মিয়ানমারের পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
দ্য ওয়ালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার বিকেলে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে এনএসআইয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি পৌঁছান সারওয়ার ফরিদ। তবে তাঁর সফর সম্পর্কে বাংলাদেশ বা ভারতের সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে সফরের উদ্দেশ্য, বৈঠকের সূচি এবং আলোচ্য বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়।
শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানও এই সফরের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরবরাহ করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে ডিসেম্বরে তাঁর দেশে ফেরার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে, এমন তথ্য নিশ্চিত নয়।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত। সরকার তাঁকে ভারতের কাছ থেকে ফেরত চেয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। ২৫ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশে কোনো অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে দেওয়া হবে না। এর আগে ভারতীয় হাইকমিশনারও জানিয়েছেন, প্রত্যর্পণের আবেদন আইনি প্রক্রিয়ায় বিবেচনাধীন এবং এ বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া সম্ভব নয়।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে কোথায় রাখা হবে এবং তাঁর নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। দিল্লির কিছু সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, তাঁকে কারাগারের পরিবর্তে সেনানিবাসের ভেতরে বিশেষ ব্যবস্থায় রাখার সম্ভাবনা বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব বাংলাদেশ সরকার বা ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে চলমান আইনি প্রক্রিয়াও সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি মামলায় তাঁর মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছে। তিনি দেশে ফিরলে আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাঁকে বিচারিক হেফাজতে থাকতে হতে পারে। শেখ হাসিনা বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে দেশে ফিরে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার চাওয়ার কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, এনএসআই মহাপরিচালকের সফরে শুধু শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নয়, মিয়ানমারের পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা সংকটও আলোচনায় আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় পড়ছে। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা, বাস্তুচ্যুত মানুষের চলাচল, সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সারওয়ার ফরিদের বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা সম্পর্কিত ভারতীয় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। তবে বৈঠকগুলোর সময়সূচি, অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় কিংবা আলোচনার সুনির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে দুই দেশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা, প্রত্যর্পণ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন দুই দেশ সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি একাধিক অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে যোগাযোগ বজায় রাখছে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির অবস্থান এবং মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এনএসআই মহাপরিচালকের বর্তমান সফরে এসব বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানার জন্য আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা নির্ভরযোগ্য পরবর্তী তথ্যের অপেক্ষা করতে হবে।
সূত্রঃ দ্য ওয়াল