সুনামগঞ্জে পুলিশের উপস্থিতিতে কৃপেশ রায়ের বাড়িতে মব, পরে গ্রেপ্তার
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে হিন্দু যুবক কৃপেশ রায়ের বাড়িতে পুলিশের উপস্থিতিতে একদল লোক জড়ো হয়ে মব সৃষ্টি করেছে। এ সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে…
রংপুরের পীরগঞ্জে পুরাতন একটি ভিডিও সামনে এনে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একটি হিন্দু পল্লীতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার(২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর উপজেলার চককরিম গ্রামের হিন্দু পাড়ায় সংঘবদ্ধ একটি দল তিনটি বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
হামলার সময় বাড়িগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চককরিম গ্রামের বাসিন্দা বিশু চন্দ্রের ছেলে সৌরভ চন্দ্রের বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত একটি পুরোনো ভিডিও ফেসবুকে নতুন করে প্রকাশের বিষয়টি সামনে আসার পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে অভিযোগে উল্লেখ করা বক্তব্যের সত্যতা কিংবা আদৌ ধর্ম অবমাননার ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

হামলার সময় বাড়িগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো একটি ভিডিও নতুন করে সামনে আসার পর এই হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, সোমবার সন্ধ্যার পর ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিতে সৌরভ চন্দ্রের বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে তারা সৌরভের বাবা বিশু চন্দ্র, কাকা জগদীশ চন্দ্র এবং সৌরভের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সব মিলিয়ে তিনটি বাড়িতে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা বাড়িতে প্রবেশের আগে বা লুটপাটের সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়। এরপর ঘরের টিভি-আলমারিসহ বিভিন্ন আসবাব ও মালামাল ভাঙচুর করে এবং মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীরা হামলাকারীদের থামানোর জন্য হাত-পা ধরে অনুরোধ করলেও তারা কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ করেছেন। হামলাকারীদের মধ্যে অনেকে বাইরের এলাকা থেকে এসেছিলেন বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পর থেকে সৌরভ চন্দ্র আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে, এলাকায় আবারও হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কায় হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িঘর ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ভুক্তভোগীরা হামলাকারীদের থামানোর জন্য হাত-পা ধরে অনুরোধ করলেও তারা কর্ণপাত করেননি। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত দীনেশ চন্দ্র মহন্ত জানান, একদল লোক সন্ধ্যায় এসে বাড়িঘরে হামলা চালায়। কিছু আসবাপত্র লুট করে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী এবং স্থানীয় বিএনপির নেতারা।
এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলা ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ধর্ম অবমাননার মতো স্পর্শকাতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ ধরনের হামলার ঘটনা নতুন করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ উঠলে তার সত্যতা যাচাই করা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের আগেই সংঘবদ্ধভাবে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হলে তা ভুক্তভোগীদের জীবন, সম্পদ ও নিরাপত্তার পাশাপাশি আইনের শাসনের জন্যও উদ্বেগজনক।
বিশেষ করে, অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত না করেই কোনো সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা চালানো হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। পীরগঞ্জের চককরিম গ্রামের ঘটনাতেও স্থানীয় হিন্দু পরিবারগুলো ভবিষ্যতে আরও হামলার আশঙ্কা করছেন। এ পরিস্থিতিতে আক্রান্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া এবং হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au