এইচএসসির ফল প্রকাশ শনিবার, জানা যাবে যেভাবে
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর)। ওই দিন বেলা ১১টায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আনুষ্ঠানিকভাবে…
ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি নতুন রেকর্ড গড়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশটির ৪৪ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা একই সময়ের হিসাবে ইসরায়েলের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্যেই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবি, তাঁর কাছ থেকে নির্বাচন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের অভিযোগ, পরাজয়ের আশঙ্কায় নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতানিয়াহু।
মঙ্গলবার ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে। কমিশনের হিসাবে, দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশজুড়ে অন্তত ৩০ লাখ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে একই সময় ভোট পড়েছিল ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ।
নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকা নেতানিয়াহু ভোটারদের দ্রুত ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে আরব ও বামপন্থী সমর্থকদের মধ্যে বেশি ভোট পড়ছে বলে দাবি করে তিনি ডানপন্থী ভোটারদেরও ভোট দিতে তাগিদ দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, তাঁদের কাছ থেকে নির্বাচন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম পার্টির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে ভোট কেনাবেচার সন্দেহে আটক করা হয়েছে। তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে ব্যাপক নির্বাচনী কারচুপির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন।
নেতানিয়াহু আরও মন্তব্য করেন, নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় চরিত্র নির্ভর করছে। বিরোধী জোট জয়ী হলে দেশটি বর্তমানে যে ধরনের ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত, তার অবসান ঘটতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভও নেতানিয়াহুর অভিযোগের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন। অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির আরব অধ্যুষিত কাফর কাসেম শহর থেকে ভিডিও বার্তা দিয়ে তাঁর দলের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের জবাবে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি অভিযোগ করেছে, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরির চেষ্টা করছেন। দলটির দাবি, নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার ভিত্তি তৈরি করতেই তিনি কারচুপির অভিযোগ তুলছেন। এক বিবৃতিতে দলটি নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে আতঙ্কের বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করে সমর্থকদের বিপুল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
আইজেনকোট নিজেও ভোট দিয়ে ইসরায়েলকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর সমর্থকেরা ভোটকেন্দ্রে তাঁকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পক্ষে স্লোগান দেন।
এদিকে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে একাধিক রাজনৈতিক দল। ইয়াশার, নাফতালি বেনেটের বি’ইয়াহাদ, ওফের উইন্টারের পিপল অব ইসরায়েল, আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু, রা’আম এবং ইয়োয়াজ হেন্ডেলের রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি ভোটগ্রহণে বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ব্যালট পেপার না পাওয়া, ব্যালট নষ্ট করা এবং ভোটগ্রহণে বাধা দেওয়ার ঘটনা।
ভোট কেনাবেচার সন্দেহে দক্ষিণাঞ্চলের বেদুইন সম্প্রদায়ের তিন ব্যক্তিকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাঁদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ অর্থভর্তি খামসহ কিছু আলামত পাওয়া গেছে। তবে রা’আম পার্টি এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।
আরব অধ্যুষিত কয়েকটি এলাকায় ভোটারদের দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ধীরগতিতে পরিচালিত হওয়ায় ভোট দিতে দেরি হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠন আদালাহ জানিয়েছে, গ্যালিলি ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় ভোটগ্রহণে বিলম্বের অভিযোগ তারা পেয়েছে।
অন্যদিকে অতি-অর্থোডক্স ইহুদি সম্প্রদায়ের ভোটারদের প্রতিনিধিত্বকারী চ্যারেডি পাবলিক পার্টির নেতা মোতি লাইটনার অভিযোগ করেছেন, তাঁর দলের নির্বাচনী প্রচারকর্মীরা বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে হুমকি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। পশ্চিম তীরের মোদিইন ইলিত এলাকায় দলটির একটি প্রচারকেন্দ্র ভাঙচুর এবং প্রচারসামগ্রীতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। কয়েকটি কেন্দ্রে তাঁদের দলের ব্যালট পেপার সরিয়ে ফেলা এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। এসব ঘটনার তদন্ত ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন লাইটনার।
তবে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ব্যালট পেপারে পরিকল্পিত বা ব্যাপক কারচুপির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিচ্ছিন্নভাবে যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যুদ্ধ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ইসরায়েলের এবারের নির্বাচন। ফলে সরকার গঠনের লড়াইয়ের পাশাপাশি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। রেকর্ড ভোটার উপস্থিতির মধ্যেও অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের কারণে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল এবং পরবর্তী সরকার গঠনের সমীকরণ নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।
সুত্রঃ টাইমস অব ইসরায়ল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au