তারেক রহমান–তাকাইচি বৈঠক: বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে একমত বাংলাদেশ ও জাপান। (ছবি: ক্যাবিনেট পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অফিস)
টোকিও, ২৮ অক্টোবর: আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ এক ট্রিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে তিনি এ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া প্রায় ২৫ মিনিটের বৈঠকের পর দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলন ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। বৈঠক শেষে ‘জাপান–বাংলাদেশ যৌথ বিবৃতি’ ঘোষণা করা হয়।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবরণ অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে শিগগিরই একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল পাঠানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তাকাইচি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে এর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বৈঠকে দুই নেতা ‘বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয়’ বা বিগ-বি উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করে ‘বিগ-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ নামে নতুন কৌশলগত সহযোগিতা উদ্যোগ হিসেবে এগিয়ে নিতে সম্মত হন। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে যৌথ সমৃদ্ধির অঞ্চলে পরিণত করাই এর লক্ষ্য।
নতুন উদ্যোগের চারটি প্রধান ভিত্তি হলো যোগাযোগব্যবস্থা জোরদার করা; প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি; সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি ও সংশ্লিষ্ট নিয়মকাঠামো গড়ে তোলা; এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা।
দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ দ্রুত কার্যকর করতে কাজ করার বিষয়েও একমত হন দুই প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, কৃষি, বনজ ও মৎস্যপণ্য, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিমান চলাচল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব থেকে আরও গভীর অংশীদারত্ব—বাংলাদেশ–জাপান সম্পর্কে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা। (ছবি: ক্যাবিনেট পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অফিস)
বাংলাদেশে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাকাইচি। জবাবে তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশ সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে এ লক্ষ্য অর্জনে কাজ করবে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশকে একটি টহল জাহাজ দেওয়ার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। নিরাপত্তায় অবদান রাখে এমন সরকারি উন্নয়ন সহায়তার আওতায় জাহাজটি দেওয়া হবে। দুই নেতা নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকের শুরুতে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণে আবারও অভিনন্দন জানান তাকাইচি। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার শক্তিকে সমর্থন করার কথা জানান তিনি। বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্বের আওতায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে প্রথম দিকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর অন্যতম জাপান। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে দেশটির বিশেষ স্থান রয়েছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনায় মিয়ানমার পরিস্থিতি এবং উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও অপহরণসংক্রান্ত বিষয়গুলো উঠে আসে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘেও সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে একমত হন দুই নেতা।
সূত্র: জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।