নিহত মো. খোরশেদ। ছবি : সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরে মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে খোরশেদ বাহিনীর প্রধান মো. খোরশেদ নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলসাদপুর গ্রামের খানের বাড়ির সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহত খোরশেদ দিলসাদপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এলাকায় তাঁর একটি দল ছিল, যেটি বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাবি, খোরশেদ বিএনপির একজন কর্মী ছিলেন।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক বলেন, খোরশেদ স্থানীয় ‘খোরশেদ বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ইটভাটায় মাটি সরবরাহের ব্যবসা করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার ও মেয়ে প্রেমা আক্তারের অভিযোগ, মাটির ব্যবসা নিয়ে ওয়ালিদ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে খোরশেদের বিরোধ চলছিল। এর আগে ওয়ালিদ তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছিলেন বলেও দাবি তাঁদের।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল দুপুরে মোরশেদ ও মজিদ নামে দুজন খোরশেদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ওয়ালিদ তাঁকে গুলি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের স্বজনদের দাবি, মাটির ব্যবসার বিরোধের জেরেই খোরশেদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ওয়ালিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম রনি বলেন, খোরশেদকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর বুকে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, খোরশেদ বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।