বাংলাদেশ

‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে চাঁদা নিতেন সমন্বয়কেরা

  • 10:10 pm - November 03, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৭৫ বার
আবদুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান ওরফে রিয়াদ। ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শাম্মী আহম্মেদের বাসায় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালানোর পর তাঁর স্বামীকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবির মুখে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার পর বাকি ৪০ লাখ টাকা নিতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন পাঁচজন। পরে গ্রেপ্তার হন আরও একজন।

এ ঘটনায় করা মামলার তদন্ত শেষে ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অনধিকার প্রবেশের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। গ্রেপ্তার ছয় আসামিই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আসামিরা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে তাঁরা বিভিন্ন থানায় যাতায়াত করতেন এবং আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও তাঁদের অবস্থান শনাক্তের বিষয়ে পুলিশকে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন।

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, পরে এই পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগের দোসর, সহযোগী কিংবা সমর্থক আখ্যা দিয়ে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির ভয় দেখানো হতো। এভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাঁদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পুলিশের অভিযান শেষে আবার বাসায় গিয়ে চাঁদা দাবি

মামলার বাদী সিদ্দিক আবু জাফর (৭৫)। তিনি গুলশান-২-এর ৮৩ নম্বর সড়কের একটি বাসায় বসবাস করেন। তাঁর স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহম্মেদ।

পিবিআইয়ের তদন্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই রাতে শাম্মী আহম্মেদ গুলশানের বাসায় অবস্থান করছেন, এমন খবর পেয়ে কয়েকজন নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়ে গুলশান-২ গোলচত্বরে জড়ো হন। পরে আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদ এবং জানে আলম অপু রাত আনুমানিক দুইটার দিকে গুলশান থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। তাঁরা শাম্মী আহম্মেদকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানোর ব্যবস্থাও করতে বলেন।

পরে বিষয়টি গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারকে জানানো হয়। ১৭ জুলাই ভোরে গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরমান আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এবং আবদুর রাজ্জাক, জানে আলম অপু, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন, আমিনুল ইসলামসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন ওই বাসায় যান।

তদন্তে পাওয়া তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে পিবিআই জানায়, সেখানে গিয়ে তাঁরা নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে বাসার বিভিন্ন কক্ষে শাম্মী আহম্মেদকে খুঁজতে থাকেন। তবে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে তল্লাশির একটি তালিকা তৈরি করে পুলিশ ও অন্যরা বাসা থেকে বেরিয়ে যান।

অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবদুর রাজ্জাক ও জানে আলম অপু আবার ওই বাসায় যান। এবার তাঁরা বাদী সিদ্দিক আবু জাফরকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখান। গ্রেপ্তার এড়াতে তাঁর কাছে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন।

পিবিআইয়ের তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, ভয়ভীতির মুখে বাদী টাকা দিতে রাজি হন। তাৎক্ষণিকভাবে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার পর বাকি ৪০ লাখ টাকা প্রস্তুত রাখতে বলে চলে যান অভিযুক্তরা। টাকা গ্রহণের ভিডিও ফুটেজও তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর ১৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে আবদুর রাজ্জাক ও জানে আলম অপু আবার ওই বাসায় যান। তাঁরা ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করলেও কেউ দরজা খোলেননি। ফলে সেখান থেকে চলে যান তাঁরা। পরবর্তী সময়ে কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনা করে ওই সময় তাঁদের ঘটনাস্থলে অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পিবিআই।

বাকি ৪০ লাখ টাকা নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার পাঁচজন

তদন্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ জুলাই বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বাকি ৪০ লাখ টাকা আদায়ের জন্য অভিযুক্তরা আবার সিদ্দিক আবু জাফরের বাসার সামনে যান। তবে তখন তিনি বাসায় ছিলেন না।

বাসার নিরাপত্তাকর্মী মো. হান্নান ফোন করে তাঁকে বিষয়টি জানান। পরে সিদ্দিক আবু জাফর দ্রুত গুলশান থানায় যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আবদুর রাজ্জাক, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন ও কিশোর আমিনুল ইসলামকে আটক করে। এ সময় জানে আলম অপু পালিয়ে যান।

পরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহায়তায় তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে আবদুর রাজ্জাক ও জানে আলম অপু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পিবিআইয়ের তদন্ত নথিতে তাঁদের জবানবন্দিতে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

‘টাকার লোভ সামলাতে পারিনি’

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদ চাঁদা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জবানবন্দিতে তিনি নিজেকে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দেন। বিভিন্ন সময়ে ফ্যাসিবাদী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

রিয়াদের জবানবন্দির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই রাতে শাম্মী আহম্মেদ গুলশানের বাসায় অবস্থান করছেন, এমন খবর পেয়ে তাঁরা থানায় যান। পরে পুলিশের একটি দল তাঁদের সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় অভিযান চালায়। তবে সেখানে শাম্মী আহম্মেদকে পাওয়া যায়নি।

রিয়াদ আদালতকে বলেন, বাসা থেকে ফেরার সময় জানে আলম অপু একটি ইয়ারপড নিয়ে এসেছিলেন। সেটিতে ‘শাম্মি ইয়ারপড’ লেখা ছিল। সেটি ফেরত দেওয়ার জন্য তাঁরা সকাল ১০টার দিকে আবার ওই বাসায় যান।

এ সময় পানি খাওয়ার অজুহাতে অপু বাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে বাদীকে বলা হয়, তাঁরা বুঝতে পারছেন তাঁর স্ত্রী বাসায় আছেন এবং তাঁকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে। এ পরিস্থিতিতে বাদী টাকা দিতে রাজি হলে প্রথমে ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। বাদী ১০ লাখ টাকা দিতে চাইলে তাঁরা তাতে রাজি হন।

রিয়াদের জবানবন্দি অনুযায়ী, ওই টাকা নিয়ে তাঁরা তাঁর বাড্ডার বাসায় যান এবং নিজেদের মধ্যে সমান ভাগ করে নেন।

বাকি ৪০ লাখ টাকা আদায়ের ঘটনা সম্পর্কে রিয়াদ বলেন, ২৬ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে তিনি ইব্রাহিম হোসেন, সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাবকে ওই বাসায় পাঠান। তাঁর দাবি, পুলিশ তাঁকে ফাঁদে ফেলার জন্য বাসায় যেতে বলে। তিনি তখন গোলচত্বরে অবস্থান করছিলেন। পুলিশের কথা বিশ্বাস করে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর বাদী থানায় খবর দেন এবং পুলিশ এসে তাঁদের আটক করে।

জবানবন্দির শেষ দিকে রিয়াদ বলেন, ‘আমি গরিবের ছেলে। আমি টাকার লোভ সামলাতে পারিনি। আমি ক্ষমা চাই।’

চাঁদার টাকায় মোটরসাইকেল কেনার দাবি অপুর

অন্য আসামি জানে আলম অপুও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে বাকি ৪০ লাখ টাকা আদায়ের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে দাবি করেন। যদিও পিবিআইয়ের তদন্তে বলা হয়েছে, ওই দিন তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে পালিয়ে যান।

অপুর জবানবন্দি অনুযায়ী, তিনি আগে একটি কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ১৭ জুলাই রাতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে গুলশানে সাবেক এক নারী সংসদ সদস্যের অবস্থানের খবর পেয়ে সেখানে যান। পরে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়।

অপু বলেন, অভিযান শেষে রিয়াদ তাঁকে আবার ওই বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বাদীর কাছে টাকা দাবি করা হলে তিনি প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। কিন্তু রিয়াদ এক কোটি টাকা দাবি করেন। পরে দীর্ঘ আলোচনার পর ৫০ লাখ টাকায় বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। তখন বাদী তাঁদের ১০ লাখ টাকা দেন।

অপুর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই টাকা নিয়ে তাঁরা রিয়াদের বাড্ডার বাসায় যান এবং পাঁচ লাখ টাকা করে ভাগ করে নেন। নিজের ভাগের টাকা থেকে ৩ লাখ ৭ হাজার টাকা দিয়ে তিনি একটি ইয়ামাহা এফজেড-এক্স মোটরসাইকেল কেনেন। এ ছাড়া কিছু টাকা দিয়ে ধারদেনা পরিশোধ করেন। আরও ৫০ হাজার টাকা বিকাশে পাঠাতে গিয়ে ভুল নম্বরে চলে যায় বলে দাবি করেন তিনি।

পরে তাঁর কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

অপু দাবি করেন, বাকি ৪০ লাখ টাকা আদায়ের জন্য রিয়াদ তাঁকে ফোন করলে তিনি যেতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর রিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তাঁর বক্তব্য, পরবর্তী সময়ে রিয়াদ অন্যদের নিয়ে ওই বাসায় টাকা চাইতে গেলেও তিনি সেখানে ছিলেন না এবং শাম্মী আহম্মেদ বা তাঁর স্বামীকে কোনো ধরনের চাপ দেননি।

টাকা, মোটরসাইকেল ও মুঠোফোন জব্দ

পিবিআইয়ের তদন্তে চাঁদাবাজির অর্থের একটি অংশ দিয়ে কেনাকাটা ও অন্যান্য লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত নথি অনুযায়ী, আবদুর রাজ্জাকের দেখানো পূর্ব বাড্ডার বৈঠাকালী এলাকার একটি বাসা থেকে ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ও কয়েকটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। জব্দ করা ফোনের মধ্যে ছিল রেডমি নোট ১০ প্রো এবং দুটি আইফোন ১৩।

অন্যদিকে জানে আলম অপুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের নবীনগর এলাকার একটি বাসার গ্যারেজ থেকে ইয়ামাহা এফজেড-এক্স মোটরসাইকেল, একটি আইফোন ১১ ও নগদ ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র, জামিনে সবাই

মামলাটি ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই গুলশান থানায় করেন সিদ্দিক আবু জাফর। প্রথমে মামলাটি তদন্ত করেন গুলশান থানার উপপরিদর্শক মোখলেছুর রহমান। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।

সংস্থাটির উপপরিদর্শক ফিরোজ আহমেদ মুন্সী তদন্ত শেষে গত ১৫ অক্টোবর ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদ এবং জানে আলম অপুর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩৮৫ ও ৩৮৬ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব ও ইব্রাহিম হোসেনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮ ও ৩৮৫ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

আসামিদের একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। মামলার পরবর্তী তারিখ ১০ নভেম্বর নির্ধারিত রয়েছে। ওই দিন অভিযোগপত্র গ্রহণের বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা। তবে ১ নভেম্বর পর্যন্ত গুলশান থানার সাধারণ নিবন্ধ শাখায় খোঁজ নিয়ে অভিযোগপত্র আদালতে জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামি আবদুর রাজ্জাক রিয়াদের আইনজীবী আকরাম হোসাইন জানিয়েছেন, তাঁরা এখনো অভিযোগপত্র দেখেননি। রিয়াদের পক্ষে আদালতে পিটিশন দাখিল করবেন বলেও জানান তিনি। রিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত ফোন নম্বরটি বর্তমানে তাঁর বড় ভাই রেজাউল করিম ব্যবহার করছেন। মামলার বিষয়ে রিয়াদ আপাতত কথা বলতে চান না বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী পরিচয় দেওয়া আবদুর রাজ্জাক রিয়াদ এই চাঁদাবাজির ঘটনার মূল হোতা। মামলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে ছয়জনকেই অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী বিচার পরিচালনা করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার প্রত্যাশা করেন তিনি।

বাদী সিদ্দিক আবু জাফরের আইনজীবী জহুরুল আলম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়ায় তাঁরা সন্তুষ্ট। তাঁরা মামলায় ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।

উল্লেখ্য, অভিযোগপত্রে উল্লিখিত অভিযোগ ও তদন্তে পাওয়া তথ্য এখনো আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। আসামিরা আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

এই শাখার আরও খবর

শাহজালাল রুমিকে চার সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের

গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলায় আলোচিত অভিভাবক শাহজালাল রুমিকে চার সপ্তাহের…

চট্টগ্রামে দুই হিন্দু বনকর্মীসহ ছয়জনের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, হাসপাতালে ভর্তি

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সরকারি বনভূমি দখল করে নির্মিত বসতঘর উচ্ছেদ করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ ঘটনায় পাঁচ বনকর্মী ও এক পুলিশ…

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট শুরু, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছর মেয়াদের মাঝপথে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে, তাঁর প্রেসিডেন্সির বাকি দুই বছর…

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, লাশ ফেলে রাখা হয় ডোবায়

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : শরীয়তপুরের ডামুড্যায় মাদক সেবন ও বিক্রি ছেড়ে দিতে বলায় লামিয়া বৃষ্টি নামে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী…

সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নতুন বাধা, পর্যটকদের দ্বীপে যাতায়াত নিয়ে অনিশ্চয়তা

১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের ভ্রমণের সুযোগ চালু হলেও এখনো কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি পায়নি। কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলের জন্য সাতটি জাহাজের মালিকপক্ষ রুট…

ওমান উপকূলে জাহাজে হামলায় ভারতীয় নাবিক নিহত

ওমানের উপকূলে ভারতের পতাকাবাহী একটি মালবাহী জাহাজে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au