চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি : সংগৃহীত
ভাস্কর দত্ত :
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন। আদেশের খবর জানার পর পরীমণি বাসা ছেড়ে আত্মগোপনে গেছেন বলে জানা গেছে।
এদিন মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু পরীমণি আদালতে উপস্থিত হননি। তাঁর আইনজীবী অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময়ের আবেদন করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সময়ের আবেদন নাকচ করে পরীমণির জামিন বাতিল ও তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। আগামী ২৩ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।
আদালতে অনুপস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য
পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জানান, অ্যালার্জিজনিত সমস্যার কারণে তাঁর মক্কেল আদালতে যেতে পারেননি। এ কারণে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্যের আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত আবেদনটি গ্রহণ না করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, পরীমণি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করছেন। এ কারণে তাঁর জামিন বাতিল চাওয়া হয়।
এর আগেও গত বছরের ২৬ জানুয়ারি মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশের দিন পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। পরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।

চিত্রনায়িকা পরীমণি। ছবি : সংগৃহীত
মামলার তদন্তে যা উঠে আসে
মামলাটির তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে পরীমণি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
তবে মামলার আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে আদালত পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন।
মামলায় পরীমণি ছাড়াও তাঁর সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমিকে আসামি করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৫ জুন তাঁরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।
বোট ক্লাবের সেই রাতের ঘটনা
২০২২ সালের ৬ জুলাই ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আদালতে মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে যান। সেখানে অ্যালকোহল পান করার পর একটি ব্লু লেবেল মদের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন নাসির।
বাদীর অভিযোগ, দাবিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর সঙ্গে পরীমণির কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরীমণি তাঁকে লক্ষ্য করে সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
নাসির উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলাটি করা হয়। তবে মামলার অভিযোগ এখনো বিচারাধীন; আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে অভিযোগগুলো প্রমাণিত বলে বিবেচিত হবে না।