‘১৩ নভেম্বর পৃথিবীর ধ্বংস’: ৬৬ বছর আগের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে নতুন করে আলোচনা কেন?
২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর শুক্রবার। দিনটি যত ঘনিয়ে আসছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি আরব গণমাধ্যমে ততই নতুন করে আলোচনায় আসছে ‘পৃথিবীর ধ্বংস’ বা মহাপ্রলয়ের একটি…
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য ইউরোপীয় নির্মিত বহুমুখী যুদ্ধবিমান ইউরোফাইটার টাইফুন কেনার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইতালির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ক্রয় উদ্যোগ আবারও আলোচনায় এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিমান কেনার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি।
পাঁচ সদস্যের ইতালীয় প্রতিনিধিদলটি ৪ নভেম্বর ঢাকায় আসে। দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন ইতালির ন্যাশনাল আর্মামেন্টস ডিরেক্টরেটের (এনএডি) প্রথম বিভাগের পরিচালক মেজর জেনারেল লুইজি কাসালি। প্রতিনিধিদলে দেশটির নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও রয়েছেন। ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে তাঁরা ঢাকার রেনেসাঁ হোটেলে ওঠেন। ৬ নভেম্বর তাঁদের ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। ইতালীয় দূতাবাস থেকে তাঁদের হোটেল বুকিং করা হয়।
সফর উপলক্ষে ৫ নভেম্বর ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো গুলশান-২-এর বাসভবনে সফররত প্রতিনিধিদলের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন। মেজর জেনারেল কাসালি ছাড়াও প্রতিনিধিদলে ছিলেন ইতালীয় নৌবাহিনীর কমান্ডার মাসিমো কাপুতো, লেফটেন্যান্ট কর্নেল রবার্তো কাস্ত্রিওত্তা, লেফটেন্যান্ট কর্নেল পিয়ের ফ্রানচেস্কো গ্রাসি এবং ইতালির নয়াদিল্লি দূতাবাসে নিযুক্ত প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে ক্যাপ্টেন আরমান্দো পাওলো সিমি।
মেজর জেনারেল কাসালির এবারের ঢাকা সফর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও তিনি বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। সে সময় ইতালীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর কাসালি ইতালির মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লিওনার্দো এসপিএর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে তৎকালীন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ওই দিন ঢাকায় বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও ইতালীয় প্রতিষ্ঠান লিওনার্দোর মধ্যে একটি ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ বা আগ্রহপত্র সই হয়। এতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সম্মুখসারির বহরে ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান সরবরাহের সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে লিওনার্দোকে চিহ্নিত করা হয়। আধুনিক বহুমুখী যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সমঝোতা করা হয়েছিল।
তবে আগ্রহপত্রটি চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি নয়। কতটি যুদ্ধবিমান কেনা হবে, সেগুলোর কী ধরনের প্রযুক্তিগত বিন্যাস থাকবে, সরবরাহের সময়সূচি কী হবে এবং মোট ব্যয় কত হতে পারে, এসব বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধবিমানের বাইরেও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আলোচনা?
এবারের ইতালীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় ও পেশাগত অবস্থান থেকে ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনার পরিধি শুধু যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। প্রতিনিধিদলে বিমানবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
বিমান ও মহাকাশ খাতের কর্মকর্তারা ইউরোফাইটার প্রকল্প এবং এর কারিগরি প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। অন্যদিকে, নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন কিংবা অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো নৌযান, যুদ্ধজাহাজ বা অস্ত্রব্যবস্থা কেনার বিষয়ে আলোচনা চলছে, এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেও এই সফরকে দেখা হচ্ছে। গত ১৮ অক্টোবর ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামসুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ওই বৈঠকে সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণ, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ৫ নভেম্বর মেজর জেনারেল কাসালির নেতৃত্বাধীন ইতালীয় প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে। এতে ইতালির রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত ছিলেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বৈঠকটিকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দুই দেশের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সুযোগ অনুসন্ধানের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হিসেবে বর্ণনা করেছে।
কেমন যুদ্ধবিমান ইউরোফাইটার টাইফুন?
ইউরোফাইটার টাইফুন ইউরোপে তৈরি একটি বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এটি নির্মাণে যুক্ত রয়েছে ইতালির লিওনার্দো, যুক্তরাজ্যের বিএই সিস্টেমস এবং এয়ারবাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস। যুদ্ধবিমানটি আকাশ প্রতিরক্ষা, আকাশপথে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন ধরনের সামরিক অভিযানে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রস্তাবিত ক্রয় উদ্যোগে ইতালির লিওনার্দোই প্রধান যোগাযোগকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য এই যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমা প্রযুক্তিতে তৈরি আধুনিক যুদ্ধবিমান যুক্ত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। তবে এ ধরনের যুদ্ধবিমান কেনার ক্ষেত্রে শুধু ক্রয়মূল্যই নয়, অর্থায়ন, যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ও সংস্করণ, পাইলট ও কারিগরি কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া যুদ্ধবিমান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, অস্ত্রব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত কোনো ক্রয় সিদ্ধান্ত কিংবা সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au