শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ সম্বোধন, বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সভায় দুই দফা হট্টগোল
জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত আলোচনা সভায় ব্যানারে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল হয়েছে। পরে…
যিশুর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং স্বর্গে যাওয়ার আশ্বাস দিয়ে অনুসারীদের অনাহারে থাকতে উৎসাহিত করার অভিযোগে কেনিয়ার ধর্মীয় গোষ্ঠীর নেতা পল ম্যাকেঞ্জিকে ২০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। এ ঘটনায় নিহত ১৯১ জনের মধ্যে ১৯০ জনই শিশু। একই মামলায় তাঁর ২৮ সহযোগীকেও অপরাধের ধরন ও সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায় ১০ থেকে ১৬০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার কেনিয়ার উপকূলীয় শহর মোম্বাসার হাইকোর্টের বিচারক ডায়ানা কাবেদজা-মোচাচে এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ম্যাকেঞ্জি তাঁর অনুসারীদের বিশ্বাস করিয়েছিলেন, অনাহারে মৃত্যুবরণ করলে তাঁরা যিশুর সঙ্গে মিলিত হতে পারবেন এবং স্বর্গে প্রবেশ করবেন। এই বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে তিনি অনুসারীদের খাবার গ্রহণ বন্ধ করতে উদ্বুদ্ধ করেন এবং তাঁদের ওপর ধর্মীয় নির্দেশনা চাপিয়ে দেন।
ম্যাকেঞ্জির নেতৃত্বাধীন ‘গুড নিউজ ইন্টারন্যাশনাল চার্চ’-এর অনুসারীদের নিয়ে কেনিয়ার কিলিফি কাউন্টির শাকাহোলা বনাঞ্চলে একটি বসতি গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে ধর্মীয় অনুশাসনের নামে নারী, পুরুষ ও শিশুদের ধাপে ধাপে অনাহারে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়া শিশুদের দিয়েই শুরু করা হয়েছিল। নির্দেশ অমান্য করতে চাইলে অনুসারীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হতো।
মামলায় মোট ১৯১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ম্যাকেঞ্জিকে দায়ী করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে অনাহার ও অপুষ্টিতে। তাঁদের মধ্যে ১৮২ জন শিশু এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক। অন্যদিকে, আট শিশুকে সরাসরি হত্যার দায়েও তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
দুই ধরনের হত্যার ঘটনায় পৃথকভাবে ১০০ বছর করে মোট ২০০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ম্যাকেঞ্জিকে। তাঁর সহযোগীদের মধ্যে কেউ অনুসারীদের অনাহারে থাকতে বাধ্য করেছেন, কেউ বসতিতে পাহারার দায়িত্ব পালন করেছেন, আবার কেউ মরদেহ গোপন করার কাজে যুক্ত ছিলেন বলে মামলায় উঠে এসেছে। অপরাধে তাঁদের ভূমিকা ও মাত্রা বিবেচনায় আদালত ২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষ ম্যাকেঞ্জির সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড চেয়েছিল। তবে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। বিচারকের পর্যবেক্ষণ ছিল, অভিযুক্ত গোষ্ঠীর অনুসারীদের কাছে মৃত্যু ছিল যিশুর সঙ্গে মিলিত হওয়ার একটি পথ। ফলে মৃত্যুদণ্ডকে তাঁরা শাস্তি হিসেবে না দেখে পুরস্কার কিংবা বিজয় হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। এ কারণে ম্যাকেঞ্জিকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।
২০২৩ সালে শাকাহোলা বনাঞ্চলে একের পর এক গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে আসে। তদন্তকারীরা ওই বনাঞ্চল থেকে চার শতাধিক মরদেহ ও কঙ্কাল উদ্ধার করেন। নিহতদের অধিকাংশই ম্যাকেঞ্জির অনুসারী ছিলেন বলে তদন্তে উঠে আসে। তবে উদ্ধার হওয়া সব মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর কেনিয়াজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ধর্মীয় স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে কোনো গোষ্ঠী কীভাবে অনুসারীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে এবং প্রাণঘাতী নির্দেশনা দিতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একই সঙ্গে ধর্মীয় সংগঠনগুলোর কার্যক্রম তদারকি, উগ্রপন্থা প্রতিরোধ এবং এ ধরনের অপরাধ আগেভাগে শনাক্ত করতে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়।
তবে ১৯১ জনের মৃত্যুর মামলায় সাজা ঘোষণার মধ্য দিয়ে শাকাহোলা বনাঞ্চলের সব অপরাধের বিচার শেষ হচ্ছে না। ওই এলাকায় আরও মৃত্যুর ঘটনায় ম্যাকেঞ্জির বিরুদ্ধে পৃথক মামলা চলমান রয়েছে। এসব মামলায় সন্ত্রাসবাদ, শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে ধর্মীয় প্রচারের আড়ালে অনুসারীদের সংগঠিত নিয়ন্ত্রণ, তাঁদের ওপর চাপ প্রয়োগ এবং বিচ্ছিন্ন বসতি গড়ে তোলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
সাম্প্রতিক রায়টি শাকাহোলা বনাঞ্চলে সংঘটিত মৃত্যুর ঘটনাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। তবে ম্যাকেঞ্জির বিরুদ্ধে চলমান অন্য মামলাগুলোর নিষ্পত্তি এবং কেনিয়ায় ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দিকেও এখন নজর থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au