সাত মাসের শিশু কন্যাকে আছড়ে হত্যার মামলায় বাবা গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: রাজধানীর উত্তরার সিরাজ মার্কেট এলাকায় সাত মাস বয়সী শিশুকন্যাকে আছড়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাবা কবির ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন…
মেলবোর্ন, ১ মে— রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় প্রথমে জামিন দেওয়া হয় ইসকন নেতা ও সনাতন ধর্মীয় গুরু চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে। পরে হাইকোর্টের সেই আদেশ স্থগিত করে চেম্বার জজ আদালত। কিছুক্ষণ বাদে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিতের আদেশ প্রত্যাহার করে একই আদালত।
একই সঙ্গে জামিন স্থগিতের আবেদন শুনানির জন্য আগামী রবিবার দিন ধার্য করে দেওয়া হয়। ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষ ও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবীর বক্তব্য শুনবে চেম্বার জজ আদালত।
বুধবার সন্ধ্যায় আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেয়।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাশের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, “হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালত যে আদেশ দিয়েছিলেন তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকবে। তবে জামিন বহাল থাকলেও আদালতের আদেশ হাতে না আসায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাশের কারামুক্তি হচ্ছে না।”
এর আগে জামিন স্থগিত চেয়ে চেম্বার জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
বুধবার বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাশের জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. আলী রেজার বেঞ্চ রায় দেয়।
ফলে চিন্ময়ের মুক্তিতে কোনো বাধা না থাকার কথা জানিয়েছিলেন তার আইনজীবী। তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
এদিন সন্ধ্যায় শুনানি শেষে চেম্বার জজ আদালত জামিন স্থগিত করে আদেশ দেয়।
তারও আগে চিন্ময়কে কেন জামিন দেওয়া হবে না- এই প্রশ্নে গত ৪ ফেব্রুয়ারি রুল জারি করে বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও মো. আলী রেজার হাইকোর্ট বেঞ্চ। এতে দুই সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের লালদিঘী মোড়ে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের এক সমাবেশে ভাষণ দেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভু। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে তিনি জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছেন। এ অভিযোগে বিএনপি নেতা ফিরোজ খান ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রামে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেন, যাতে মোট ১৯ জনকে আসামি করা হয়।
এর প্রেক্ষিতে ২৫ নভেম্বর ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গোয়েন্দা শাখা চিন্ময় প্রভুকে গ্রেফতার করে এবং তাঁকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের আদালতে বাইরে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেকে জড়ো হয়েছিলেন চিন্ময় প্রভুর গ্রেফতারির প্রতিবাদ জানাতে। জনতার ওপর নির্বিচারে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সময় সংঘর্ষে এক আইনজীবী খুন হন। পরে ২১ জন হিন্দু নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়।
২৬ নভেম্বর তাঁর জামিন আবেদন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালত খারিজ করেন। এদিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের হয়ে কোনও আইনজীবী যাতে মামলা না লড়েন, তার জন্যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল এবং চট্টগ্রামের কোন আইনজীবী চিন্ময় দাস কৃষ্ণের হয়ে মামলায় লড়তে পারেননি। তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করারও অভিযোগ উঠেছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা থেকে অপূর্ব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ১১ জনের একটি আইনজীবী দল চট্টগ্রামে আদালতে জামিনের জন্য শুনানি করেন গত ২ জানুয়ারি ২০২৫ এবং মহানগর দায়রা জজ আদালতও জামিন নামঞ্জুর করেন।
এরপর চিন্ময় প্রভুর আইনজীবী অ্যাডভোকেট অপূর্ব ভট্টাচার্য ১২ জানুয়ারি হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন। ৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চায়, কেন তাঁকে জামিন দেওয়া হবে না?
আজ হাইকোর্টে জামিন আদেশের পর ওটিএন বাংলার সঙ্গে কথা বলেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। তিনি জানান, “চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে আর কোনও মামলা নেই। সেক্ষেত্রে জামিন পাওয়ার পর তাঁর মুক্তিতে আইনত কোনও বাধা থাকার কথা নয়। তবে সরকার যদি আপিল বিভাগে স্থগিতাদেশ চায়, তাহলে সেক্ষেত্রে আমরা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।”
আদালতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অ্যাডভোকেট ভট্টাচার্য বলেন, “চিন্ময় কৃষ্ণ দাস একজন দেশপ্রেমিক। তিনি প্রতিটি বক্তৃতার আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন। ‘জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী ’—এই শ্লোক উচ্চারণের মাধ্যমে তিনি তাঁর সমাবেশের বক্তব্য শুরু করতেন। এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের পক্ষে আদালতে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। তাই জামিন দিতে কোনো আপত্তি থাকা উচিত নয়।”
অ্যাডভোকেট অপূর্ব ভট্টাচার্য জানান, চিন্ময় প্রভুকে যে ধারাগুলোর আওতায় আটক করা হয়েছে তা দুর্বল এবং ভিত্তিহীন। আসল ঘটনার দিন চিন্ময় প্রভু যে জায়গায় বক্তব্য দিয়েছিলেন তা ঘটনাস্থল থেকে দুই কিলোমিটার দূরে। তিনি তাঁর বক্তব্য শুরু করেছিলেন জাতীয় সংগীত গেয়ে ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে, যা তাঁর দেশপ্রেমের প্রমাণ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au