জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় ৩ বছরের কারাদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান। আপিল করার ক্ষেত্রে তাঁর ৫৮৭ দিনের বিলম্ব মার্জনার আবেদন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট।
আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে জুবাইদা রহমানের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও আইনজীবী কায়সার কামাল।দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আসিফ হাসান।
পরে আইনজীবী কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপিল করার জন্য ৫৮৭ দিন বিলম্ব মার্জনা করেছেন হাইকোর্ট। আইন ও বিধি অনুসরণ করে আপিল করা হবে।’জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা এই মামলায় জুবাইদা রহমানের সাজা স্থগিত করে গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘সাজা স্থগিত চেয়ে জুবাইদা রহমানের করা আবেদন এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামতের আলোকে ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৮৯ এর ধারা ৪০১(১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে প্রদত্ত দণ্ডাদেশ বিজ্ঞ আদালত আত্মসমর্পণপূর্বক আপিল দায়েরের শর্তে ০১ (এক) বছরের জন্য নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হলো।’
সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক জহিরুল হুদা। মামলায় ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। আর তারেক রহমানকে সহযোগিতা ও তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয় জুবাইদা ও তার মায়ের বিরুদ্ধে।পরের বছরই তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
বিচার শেষে ২০২৩ সালের ২ অগাস্ট এ মামলায় তারেক রহমানকে ৯ বছর এবং তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. আছাদুজ্জামান। এ রায়ের বিরুদ্ধেই আপিল করতে ৫৮৭ দিন বিলম্ব মার্জনা চেয়ে আবেদন করেন জুবাইদা রহমান।