ঘটনা ২০ জুনের, ভিডিও ভাইরাল এখন। মাদারীপুরে চার বছরের হিন্দু শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ভুক্তভোগী মায়ের কান্নার ভিডিও নতুন করে আলোচনায় এনেছে ঘটনাটি। Photo: Screenshot
মেলবোর্ন | ওটিএন বাংলা, ২২ জুলাই: বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওর মাধ্যমে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ওটিএন বাংলার প্রতিনিধি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছে, ঘটনাটি ঘটেছে ২০ জুন ২০২৬, তবে ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের কান্নার ভিডিওটি গত দুই-তিন দিনের মধ্যে ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ঘটনার প্রায় এক মাস পর শিশুটির মায়ের হৃদয়বিদারক ভিডিও ক্লিপটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে স্থানীয় সমাজের নেতৃবৃন্দের সামনে ন্যায়বিচারের আকুতি জানাচ্ছেন। নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কন্যা সন্তানের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামের বাসিন্দা পলাশ সরকারের ছেলে, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রেম সরকার (১৫)-এর বিরুদ্ধে একই গ্রামের তন্ময় মজুমদারের চার বছর বয়সী কন্যা তনুশ্রী মজুমদারকে শনিবার, ২০ জুন, দুপুর ১২টার দিকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিশুর কাকি চৈতি মজুমদার জানান, দীর্ঘ সময় শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশের বাড়ি থেকে শিশুটির চিৎকার শুনে ঘরে প্রবেশ করলে তিনি দাবি করেন, সেখানে অভিযুক্ত প্রেম সরকার ও শিশুটিকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। এরপর বিষয়টি প্রথমে পরিবারের সদস্যদের এবং পরে স্থানীয় লোকজনকে জানানো হয়। পরবর্তীতে শিশুটিকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য থানার মাধ্যমে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চৈতি মজুমদার অভিযুক্ত প্রেম সরকারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেম্বার রূপমালা বালা বলেন ধর্ষণের ঘটনার সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে যায় তিনিও ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
রাজৈর থানার ওসি (তদন্ত) কুতুব উদ্দিন আহমেদ জানান, মহিষমারী গ্রামে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভুক্তভোগী শিশুটিকে প্রথমে থানায় এনে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। পরে ডাক্তারি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য তাকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।
এদিকে, ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে স্থানীয় সাংবাদিকরা সেই সময় অভিযুক্ত প্রেম সরকারের বাড়িতে গেলে সেখানে পরিবারের কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর থেকেই বাড়িটি ফাঁকা রয়েছে এবং অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের অবস্থান সম্পর্কে কেউ নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেননি।
ওটিএন বাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। স্থানীয় সূত্র ও সংবাদকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুন ২০২৬ ঘটনাটি ঘটার পর পরিবার বিষয়টি স্থানীয় লোকজনকে জানায়। সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এবং স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের কান্না ও ন্যায়বিচারের আকুতির ভিডিওটি ধারণ করা হয়। তবে ভিডিওটি গত দুই-তিন দিনের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি নতুন করে দেশ-বিদেশে আলোচনায় এসেছে।