‘জোরপূর্বক শ্রম’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে বাংলাদেশের নাম কেন?
মেলবোর্ন, ১৫ মার্চ- বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা বা অতি উৎপাদন হচ্ছে কি না এবং পণ্য তৈরিতে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করা হচ্ছে কি…
মেলবোর্ন, ২৬ জুন— সংবিধান থেকে রাষ্ট্রের বর্তমান মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দেওয়ার পক্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ বিষয়গুলো ‘সময়োচিত নয়’ দাবি করে নতুন মূলনীতি সংযোজনের প্রস্তাব দিয়েছে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের রাজনৈতিক এ দলটি। তারা ‘সাম্য’, ‘মানবিক মর্যাদা’, ‘সামাজিক সুবিচার’ ও ‘গণতন্ত্র’—এই চারটি বিষয়কে সংবিধানের মৌলিক নীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে।
বুধবার রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল মাল্টিপারপাস হলে নির্বাচন কমিশনের দ্বিতীয় দফা সংলাপের ষষ্ঠ দিনে অংশ নিয়ে দলটি এ প্রস্তাব দেয়।
সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “১৯৭২ সালের সংবিধান এবং পরবর্তীতে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে গৃহীত মূলনীতিগুলো ছিল একটি বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শ-নির্ভর। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এসব নীতি জনগণের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন জাতীয় চেতনার ভিত্তিতে নতুন মূলনীতি প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রস্তাব দিয়েছি—বর্তমান সংবিধানের মূলনীতিগুলো বাদ দিয়ে জনগণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ একটি নতুন কাঠামোর ভিত্তিতে মূলনীতি নির্ধারণ করতে হবে। তবে এ বিষয়ে আজকের সংলাপে কোনো ঐকমত্য হয়নি।”
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে গঠিত ‘সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটি’ নামক প্রস্তাবিত কাঠামোকে সমর্থন জানিয়ে আখতার বলেন, “আমাদের কোনো আপত্তি নেই এই নাম পরিবর্তনে। বরং আমরা চাই, নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে একটি নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামোর মাধ্যমে সম্পন্ন হোক।”
তিনি আরও জানান, কমিটিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি ও ডেপুটি স্পিকারের উপস্থিতি প্রসঙ্গে কিছু দলের আপত্তি থাকলেও এনসিপি মনে করে, নির্বাচিত প্রতিনিধির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
তবে আখতার হোসেন আলোচনার দীর্ঘায়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “যে গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তুলতে মানুষ প্রাণ দিয়েছে, সেই কাঠামোর সংস্কার যদি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে গণআকাঙ্ক্ষার ব্যর্থতা স্পষ্ট হবে।”
“আজকের সংলাপের মূল আলোচনাগুলো নতুন কাঠামো ও গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপনের জন্য হলেও কিছু দল এখনো পুরনো ধ্যানধারণার সঙ্গে নিজেদের আটকে রেখেছে। এতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বড় রকমের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে”—তিনি আরও যোগ করেন।
সংলাপে আলোচনার এই ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে এনসিপি আশা করে, ভবিষ্যতে একটি জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সংবিধানের মূলনীতির পুনর্গঠন সম্ভব হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au