ভারতের বিহার রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকা হালনাগাদের (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR) প্রক্রিয়ায় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী ‘ইন্ডিয়া ব্লক’-এর ১১টি দল এই উদ্যোগকে ‘ভোটবাঁদি’ আখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে ভোটার বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে।
বিরোধীদের দাবি, এই হালনাগাদ প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বল্প সময়ে ও অবাস্তব শর্তে চালানো হচ্ছে, যাতে দরিদ্র, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং অভিযোগ করেছেন, মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে প্রায় ২০ লাখ ভোটারের তথ্য যাচাই করা সম্ভব নয়, যা প্রক্রিয়াটিকে ‘অন্যায়’ করে তুলছে। অন্যদিকে এআইএমআইএম নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি সতর্ক করেছেন, এভাবে তাড়াহুড়া করে নাম বাদ পড়লে ‘কোটি কোটি ভোটার’ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
প্রতিটি ভোটারকে ‘ইনিউমারেশন ফর্ম’ পূরণ করতে বলা হচ্ছে, যেখানে বয়স ও নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য অতিরিক্ত নথি চাওয়া হচ্ছে। বিরোধীরা এটিকে এনআরসি-র মতো উদ্যোগ হিসেবে দেখছে, যা ভয় ছড়াচ্ছে। তবে নির্বাচনী কমিশন জানিয়েছে, তারা সংবিধান অনুযায়ী কাজ করছে এবং সব রাজনৈতিক দলকেই পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণের সুযোগ দিচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়া নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী
দলগুলোর মতে, এটি ক্ষমতাসীনদের ভোটার সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পরিকল্পিত কৌশল। নির্বাচন কমিশন অবশ্য বলছে, ২০০৩ সালের পর এই প্রথমবারের মতো এমন বিস্তৃত হালনাগাদ হচ্ছে, যা ভোটার তালিকাকে আরও সঠিক করতে সাহায্য করবে।
বিহারের এই বিতর্ক এখন শুধু নির্বাচন নয়, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।