বিশ্ব

এক দশক পেরিয়ে ‘৭০৯’ অভিযান: এখনও থামেনি চীনের মানবাধিকার কর্মীদের ওপর নিপীড়ন

  • 12:49 am - July 11, 2025
  • পঠিত হয়েছে:২৩৭ বার
শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীনে আদালত ও আইনজীবীসহ পুরো আইনি ব্যবস্থাকে একরকম পার্টির নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ছবিঃ রয়টার্স

মেলবোর্ন, ১১ জুলাই-

চীনে মানবাধিকার আইনজীবী ও কর্মীদের ওপর পরিচালিত বহুল আলোচিত ‘৭০৯’ অভিযানের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বরং আরও কঠোর হয়েছে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও নিপীড়ন। ২০১৫ সালের ৯ জুলাই শুরু হওয়া এই অভিযানে প্রায় ৩০০ জনের বেশি আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীকে আটক, জিজ্ঞাসাবাদ এবং হয়রানির শিকার করা হয়। অভিযানের নাম ‘৭০৯’ এসেছে সেই তারিখের সূত্রে।

গ্রেপ্তার হওয়া আইনজীবীদের মধ্যে অন্তত ১৫ জনকে রাষ্ট্র ক্ষমতা উৎখাতের মতো গুরুতর অভিযোগে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অনেকেরই আইনজীবী লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। কেউ এখনো গৃহবন্দী বা পুলিশের কঠোর নজরদারিতে আছেন। এমনকি তাদের পরিবারের ওপরও নেমে এসেছে নানা ধরনের চাপ ও ভয়ভীতি।

শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীনে আদালত ও আইনজীবীসহ পুরো আইনি ব্যবস্থাকে একরকম পার্টির নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করা বা সমালোচনা করার ঝুঁকি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। ‘RSDL’ নামে গোপন আটক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারবহির্ভূতভাবে রাখা হচ্ছে অনেককে, যেখানে দিনের পর দিন জিজ্ঞাসাবাদ, মানসিক নির্যাতন এবং নানা হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

ডয়চে ভেলেসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা বলছে, এভাবে আইনি স্বাধীনতা সীমিত করে ভিন্নমতকে দমন করা হচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো চীন সরকারের বিরুদ্ধে আরও শক্ত অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ হয়।

তবে এই পরিস্থিতিতেও কিছু সাহসী মানবাধিকার আইনজীবী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ গোপনে, কেউ আবার দেশের বাইরে থেকে এই কাজ চালাচ্ছেন। তাদের মতে, যদিও পরিস্থিতি এখন কঠিন, তবু মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে এবং একদিন এটাই বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে।

‘৭০৯’ অভিযানের ১০ বছর পরও চীনে মানবাধিকার রক্ষায় স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে—নিয়ন্ত্রণ ও ভয় দেখিয়ে কণ্ঠরোধের প্রবণতা অব্যাহত আছে, আর সেইসঙ্গে রয়েছে মানুষকে আরও বেশি আত্মনির্ভর ও সচেতন হওয়ার লড়াইও।

‘৭০৯’ অভিযান কি এবং কেন

চীনে ‘৭০৯’ অভিযান শুরু হয়েছিল ২০১৫ সালের ৯ জুলাই, যখন হঠাৎ করেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত মানবাধিকার আইনজীবী, আইন সহকারি ও অ্যাক্টিভিস্টদের আটক করা হয়। এই অভিযানের নামকরণও হয়েছে সেই তারিখের ভিত্তিতে। মূলত যারা সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বা নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলতেন, তাদেরকেই টার্গেট করা হয়েছিল।

তৎকালীন শি জিনপিং সরকারের অধীনে এই অভিযানকে দেখা হয়েছিল ক্ষমতায় থাকা কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচনা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার আন্দোলনগুলোকে দমন করার বড় ধরনের পদক্ষেপ হিসেবে। অনেককে গোপন স্থানে আটক রাখা হয়েছিল, যাকে বলা হয় RSDL বা ‘Residential Surveillance at a Designated Location’। এই ধরনের গোপন বন্দিত্বের সময় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও ওঠে।

অভিযানের পর অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। কারো কারো আইনজীবী হিসেবে কাজ করার লাইসেন্স বাতিল করা হয়। কেউ কেউ জামিনে মুক্ত হলেও তাদের ওপর নজরদারি আর হয়রানি থেকে যায়। ফলে চীনে মানবাধিকার আইনি সহায়তার ক্ষেত্রটি প্রায় ভেঙে পড়ে এবং ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়।

‘৭০৯’ অভিযান শুধু ব্যক্তিদের দমন নয়, বরং পুরো মানবাধিকার আন্দোলন এবং আইনের শাসনের ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখা হয়। এর মধ্যেও কিছু আইনজীবী ও কর্মী এখনো নীরবে বা দেশের বাইরে থেকে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যদিও চীনে মানবাধিকার রক্ষার পথ আগের চেয়ে অনেক বেশি সংকুচিত হয়েছে।

সুত্রঃ ডিডব্লিউ

এই শাখার আরও খবর

পরিবারের দাবি, ফাঁসানো হয়েছে : চুম্বনের দাবিও নিশ্চিত নয়

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় অভিযোগ, আদালতের রায় এবং বাংলাদেশকে আগে অবহিত না করার কারণ জানতে চেয়েছে…

এবার জার্মানিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক শিক্ষার্থীদের

  জার্মানিতে শিক্ষা ও সামাজিক খাতে ব্যয় সংকোচন, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের পরিকল্পনার প্রতিবাদে আগামী ৩১ অক্টোবর দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থী…

বিজয়া দশমীতে সিঁদুরের রঙে আনন্দ, দেবী বিদায়ে বিষাদ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  ছয় দিনের পূজা-অর্চনা শেষে বিদায়ের পালা দেবী দুর্গার। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শেষ অর্ঘ্য নিবেদন, দর্পণ বিসর্জন ও ঘট বিসর্জনের মধ্য…

‘পাপের লাশ দেশে আসুক চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন বিএনপির এমপি

সৌদি আরবে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিরোধিতা করে ‘পাপের লাশ দেশে আসুক চাই না’ মন্তব্য করেছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের…

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কি ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে?

সামরিক কৌশল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে একসঙ্গে চাপে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত, আঞ্চলিক মিত্রদের…

মাগুরায় যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ

মাগুরা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাকের হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au