শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে রাজধানীর পল্লবীর আলব্দিরটেক এলাকায় এ কে বিল্ডার্স নামের আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে অস্ত্র–শস্ত্র নিয়ে হামলা করেন একদল লোক; ছবিঃ সংগৃহীত
ঢাকা, ১২ জুলাই-
চাঁদাবাজির কারণে রাজধানীর দুই এলাকায় দুটি বড় সহিংস ঘটনার খবর প্রকাশ্যে এসেছে, যা দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেল পাঁচটার দিকে রাজধানীর পল্লবীর আলব্দিরটেক এলাকায় এ কে বিল্ডার্স নামের একটি আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. কাইউম আলী খান জানান, তিন সপ্তাহ আগে জামিল নামে এক ব্যক্তি তাঁর কাছে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় সন্ত্রাসীরা এর আগেও দুই দফা হামলা চালায় এবং সিসি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
গতকালের হামলায় অন্তত ৩০–৪০ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অংশ নেয় এবং চারটি গুলি চালায়। এতে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম আহত হন। তাঁকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পল্লবী থানার ওসি শফিউল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি, তবে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এ কে বিল্ডার্সের চেয়ারম্যান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ২৭ জুন প্রথমবার এবং ৪ জুলাই দ্বিতীয়বার অজ্ঞাত ব্যক্তিরা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায় ও হুমকি দেয়।
এ ঘটনার কয়েকদিন আগে, গত বুধবার সন্ধ্যায় (৯ জুলাই) পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় মাসিক দুই লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যা করে একদল সন্ত্রাসী।
প্রকাশ্যে, ব্যস্ত সড়কে, লাল চাঁদকে পিটিয়ে ও ইট-পাথর দিয়ে মাথা-শরীর থেঁতলে হত্যা করা হয়। এমনকি তাকে বিবস্ত্র করে হত্যাকারীরা লাফিয়ে আঘাতও করে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত লাল চাঁদ একসময় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের চারজন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এই দুটি ঘটনার পর রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বেড়েছে।