হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ছবিঃ ঢাকা পোস্ট
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই-
ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬৫ জন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানায়।
আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন হাসপাতালে আহত ও নিহতদের সংখ্যা হলো:
• জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট: ৪৬ জন আহত, ১০ জন নিহত
• সিএমএইচ-ঢাকা: ২৮ জন আহত, ১৬ জন নিহত
• ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ৩ জন আহত, ১ জন নিহত
• লুবনা জেনারেল হাসপাতাল: ১৩ জন আহত, ২ জন নিহত
• উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল: ৬০ জন আহত, ১ জন নিহত
• ইউনাইটেড হাসপাতাল: ২ জন আহত, ১ জন নিহত
• কুয়েত মৈত্রী, কুর্মিটোলা, শহীদ মনসুর আলী ও ক্রিসেন্ট হাসপাতালে কিছু আহত, তবে মৃত্যু হয়নি।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ৬ মিনিটে যুদ্ধবিমানটি উড্ডয়নের ১২ মিনিট পরই মাইলস্টোন ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ধরে গেলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিমানে পাইলট হিসেবে ছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম, যিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
এই দুর্ঘটনায় নিহতদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। বার্ন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, মৃতদের মধ্যে ২৫ জনই শিশু। তিনি জানান, গুরুতর দগ্ধ পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং দুইজন ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত হয়নি, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা দিয়াবাড়ী গোলচত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন:
১. নিহতদের পরিচয় প্রকাশ ও মরদেহ হস্তান্তর
২. আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ
৩. সেনাসদস্যদের আচরণের জন্য ক্ষমা
৪. ক্ষতিপূরণ প্রদান
৫. ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধবিমান বাতিল
৬. নিরাপদ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ চরমে পৌঁছে যায়। সরকারের পক্ষ থেকে সংলাপে অংশ নিতে আসা আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার এবং প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে তারা ‘ভুয়া, ভুয়া’, ‘আমার ভাই মরল কেন’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ইত্যাদি স্লোগানে ঘিরে ফেলেন। পরে তারা মাইলস্টোন ভবনের একটি কক্ষে আশ্রয় নেন এবং কিছু সময় অবরুদ্ধ থাকেন।
এদিকে, আহতদের দেখতে গিয়ে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জনবহুল এলাকায় বিমান প্রশিক্ষণের বিষয়টি নতুন করে ভাবতে হবে। তিনি জানান, গুরুতর দগ্ধ কয়েকজনের চিকিৎসায় সিঙ্গাপুর থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল আনা হচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, চিকিৎসায় সবধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে এবং শনাক্ত হওয়া মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোক ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ বিরাজ করছে।