ইয়েমেনে ভয়াবহ সংঘর্ষ, একদিনেই নিহত ১৪১
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত কয়েকটি…
মেলবোর্ন, ২৬ জুলাই- থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার সীমান্তে চলমান সংঘর্ষ তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক আহ্বান সত্ত্বেও শনিবার আরও নতুন সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশই বলছে, তারা আত্মরক্ষার জন্যই লড়ছে এবং অপর পক্ষকে যুদ্ধ থামিয়ে আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।
গত ১৩ বছরের মধ্যে এই সংঘর্ষই সবচেয়ে ভয়াবহ, যাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন নিহত এবং ইতোমধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
থাইল্যান্ডের নৌবাহিনী জানিয়েছে, শনিবার সকালে ট্রাট উপকূলীয় প্রদেশে নতুন একটি সংঘর্ষ শুরু হয়, যা পুরোনো সংঘর্ষস্থল থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে। মে মাসের শেষদিকে এক কাম্বোডিয়ান সেনা নিহত হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এরপর থেকে সীমান্তে সেনা সংখ্যা বাড়িয়ে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে ওঠে এবং থাইল্যান্ডের জোট সরকার প্রায় পতনের মুখে পড়ে।

বৃহস্পতিবার দুই দেশের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয় একটি বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায়। ছবিঃ রয়টার্স
শনিবার পর্যন্ত থাইল্যান্ড ১৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। অপরদিকে, কাম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মালি সোচেতা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে পাঁচজন সৈন্য ও আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। থাইল্যান্ডের সিসাকেত প্রদেশের কান্ত্রালাক জেলায় সংঘর্ষস্থলের কাছাকাছি একটি শহরের হোটেল কর্মী চিয়ানুয়াত থালালাই বলেন, “প্রায় সবাই শহর ছেড়ে চলে গেছে, শহরটা প্রায় জনশূন্য।” তিনি জানান, তার হোটেল সীমান্তসংলগ্ন কিছু মানুষকে আশ্রয় দিচ্ছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বলেন, জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে দুইবার থাই ভূখণ্ডে নতুনভাবে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনে সৈন্য আহত হয়েছেন, তবে কাম্বোডিয়া তা অস্বীকার করেছে। রাষ্ট্রদূত জানান, বৃহস্পতিবার সকালেই কাম্বোডিয়া প্রথম হামলা শুরু করে।
থাই রাষ্ট্রদূত চেরদচাই চাইভাইভিদ বলেন, “থাইল্যান্ড কাম্বোডিয়াকে অবিলম্বে সব ধরনের আগ্রাসন বন্ধ করে আন্তরিকভাবে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানায়।”
দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ
কাম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “থাইল্যান্ড বৃহস্পতিবার সম্পূর্ণ পরিকল্পিত, উস্কানিমূলক এবং বেআইনি সামরিক হামলা চালিয়েছে।” তারা অভিযোগ করেছে, থাইল্যান্ড এখন সীমান্তে সেনা ও অস্ত্র মোতায়েন বাড়াচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এই পরিকল্পিত সামরিক প্রস্তুতি থাইল্যান্ডের আগ্রাসন বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয় এবং এটি কাম্বোডিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে।” তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে থাইল্যান্ডের আগ্রাসনের নিন্দা জানানোর ও আগ্রাসন ঠেকানোর আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, থাইল্যান্ড বলেছে, তারা দ্বিপাক্ষিকভাবে সমস্যার সমাধান চায় এবং কাম্বোডিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে এ ইস্যুকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলেছে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে।
দুই দেশের মধ্যে ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত স্থান হচ্ছে প্রাচীন হিন্দু মন্দির তা মোয়ান থম ও ১১ শতাব্দীর প্রাহ ভিহার মন্দির। ১৯৬২ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত প্রাহ ভিহারকে কাম্বোডিয়ার অংশ হিসেবে ঘোষণা করে, তবে ২০০৮ সালে কাম্বোডিয়া এটিকে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে গেলে উত্তেজনা বাড়ে। এরপর একাধিকবার সংঘর্ষ হয় এবং বহু প্রাণহানি ঘটে।
২০২৫ সালের জুনে কাম্বোডিয়া আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে পুনরায় বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানায়। তবে থাইল্যান্ড বলেছে, তারা কখনোই আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করেনি এবং তারা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চায়।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au