ইয়েমেনে ভয়াবহ সংঘর্ষ, একদিনেই নিহত ১৪১
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত কয়েকটি…
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই- যুক্তরাজ্যের কড়াকড়ি অভিবাসননীতির কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা পুনর্বিবেচনায় বাধ্য হচ্ছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এরই ধারাবাহিকতায়, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ নিয়ে এলো লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টি ঘোষণা দিয়েছে, তারা এখন থেকে বাংলাদেশ থেকে আর নতুন কোনো শিক্ষার্থীকে ভর্তি করবে না।
এই সিদ্ধান্ত এসেছে যুক্তরাজ্যের ‘বেসিক কমপ্লায়েন্স অ্যাসেসমেন্ট’ (BCA) নীতির আলোকে। এই নীতি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্পনসর করার জন্য নির্ধারিত ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার মাত্র ৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। অথচ লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৬০-৬৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এই বিপুল ভিসা প্রত্যাখ্যানের হারই সিদ্ধান্তটির পেছনে প্রধান কারণ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ভাইস-চ্যান্সেলর গ্যারি ডেভিস জানান, এত বেশি পরিমাণ প্রত্যাখ্যানের হার বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ্রিন’ কমপ্লায়েন্স স্ট্যাটাস বজায় রাখার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করছে। ভিসা প্রত্যাখ্যান ভবিষ্যতের আবেদনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এ বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় আশ্বস্ত করেছে, যারা ইতিমধ্যেই আবেদন করেছেন, তাদের কারো আর্থিক ক্ষতি হবে না। যাদের জন্য স্টাডি অ্যাকসেপ্টেন্সের নিশ্চয়নপত্র (CAS) ইস্যু করা হয়েছিল, সেগুলো প্রত্যাহার করা হবে এবং টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হবে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং ভবিষ্যতের ভিসা সম্ভাবনা অক্ষুণ্ণ রাখাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেছেন গ্যারি ডেভিস।
এই ঘটনা শুধু লন্ডন মেট্রোপলিটনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাজ্যের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়েরাও একই পথে হাঁটছে। গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান ইউনিভার্সিটি ইতিমধ্যে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের কিছু কোর্সে বিদেশি ভর্তি বন্ধ করেছে। ইউনিভার্সিটি অব সান্ডারল্যান্ডও ইরান, ইরাক, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনসহ কয়েকটি দেশে থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত করেছে।
এছাড়া ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশিদের জন্য ইউকে স্টাডি ভিসার অনুমোদনের হার ৬৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ পয়েন্ট কম। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্ভরশীলদের ওপর নিষেধাজ্ঞা, সম্ভাব্য টিউশন ফি বৃদ্ধির শঙ্কা ও সেটেলমেন্টের সময়সীমা পাঁচ থেকে দশ বছরে বাড়ানোর পরিকল্পনা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা অর্জন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এলএসসিআই-এর চেয়ারম্যান নসরুল্লাহ খান জুনায়েদ বলেন, “এটা আমাদের জন্য খুবই হতাশাজনক ও লজ্জার বিষয়।”
যুক্তরাজ্যে পড়তে আগ্রহী হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর স্বপ্নে তাই এই সিদ্ধান্ত যেন বড় এক ধাক্কা।
সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au