ইয়েমেনে ভয়াবহ সংঘর্ষ, একদিনেই নিহত ১৪১
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত কয়েকটি…
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই-গাজা উপত্যকায় বিমান থেকে ত্রাণ ফেলা কার্যকর কোনো সমাধান নয়—এমন মন্তব্য করে মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা একে ‘অদ্ভুত বিভ্রান্তি’ এবং ‘বিপজ্জনক ও অকার্যকর’ পদ্ধতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
রবিবার (২৭ জুলাই) সকালে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী দাবি করে, তারা গাজায় মানবিক সহায়তা বিমান থেকে ফেলেছে। এ খবর প্রকাশের পরই ত্রাণ সংস্থাগুলোর নেতারা এই পদ্ধতির বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানসহ কয়েকটি দেশ গাজায় আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার বলেছেন, ব্রিটেন গাজায় বিমান থেকে ত্রাণ পাঠাতে ‘যা কিছু সম্ভব, সব করছে’। তবে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (IRC) প্রতিনিধি কিয়ারান ডনেলি বলেন, এভাবে ত্রাণ সরবরাহ ‘প্রয়োজনীয় পরিমাণ বা গুণগত মানের সহায়তা দিতে পারে না।’
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার (UNRWA) প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বলেন, ‘বিমান থেকে ত্রাণ ফেলা ব্যয়বহুল, অকার্যকর এবং বিপজ্জনক। অনেক সময় ভুল জায়গায় পড়লে ক্ষুধার্ত মানুষ মারাও যেতে পারে।’ তিনি জানান, জর্ডান ও মিসরে UNRWA’র হাতে ছয় হাজার ট্রাকের সমপরিমাণ ত্রাণ মজুদ রয়েছে। যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে, তবে তা স্থলপথে গাজায় পাঠানো সম্ভব।
লাজারিনি আরও বলেন, স্থলপথেই ত্রাণ পৌঁছানো অধিক কার্যকর, দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ। এই পথে গাজার মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা যায়।
ইসরায়েল বলেছে, তারা গাজায় ত্রাণ পাঠানোর জন্য নির্ধারিত মানবিক করিডোর স্থাপন করবে, যার মাধ্যমে জাতিসংঘের ত্রাণ বহর নিরাপদে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ করতে পারবে। তবে তারা কোথায় ও কীভাবে এই করিডোর চালু করবে, সে সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। বরং ইসরায়েলি সরকারের এক মুখপাত্র জাতিসংঘের বিরুদ্ধে হামাসের সঙ্গে কাজ করার অভিযোগও তোলে, যা জাতিসংঘ ও হামাস উভয়ই প্রত্যাখ্যান করেছে।
গত বছর ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্স জর্ডান নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক বিমানবাহিনীর অংশ হিসেবে ১০টি বিমান থেকে ১১০ টন ত্রাণ সরবরাহ করেছিল। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এ ধরনের সরবরাহ চলমান দুর্ভিক্ষ মোকাবেলায় একেবারেই যথেষ্ট নয়।
বিবিসি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষের একবেলার খাবার জোগাতে প্রায় ১৬০টি বিমান প্রয়োজন হবে। অথচ জর্ডানের আছে ১০টি ও আমিরাতের আছে ৮টি কার্গো বিমান। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর তথ্যানুসারে, একটি বিমান গড়ে ১২,৬৫০ খাবার সরবরাহ করতে পারে।
নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের শায়না লো জানান, আকাশ থেকে ত্রাণ পড়ার সময় মানুষ তা ধরতে গিয়ে ডুবে যাচ্ছে, আবার অনেক সময় বাক্স নিচে পড়ে মানুষকে চাপা দিচ্ছে। ত্রাণ পাওয়ার লড়াইয়ে মারামারি, আহত হওয়া, বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে আসে, গাজার বাসিন্দারা আকাশ থেকে ত্রাণ পড়া নিয়ে আতঙ্কে আছেন। একজন গাজাবাসী মা বলেন, তারা পানি বা খাবার ছাড়াই বেঁচে আছেন। নেই রুটি, নেই বিশুদ্ধ পানি।
মার্চের শুরুতে ইসরায়েল গাজায় ত্রাণ প্রবেশ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেয় এবং যুদ্ধবিরতি ভেঙে হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান পুনরায় শুরু করে। তারা জানায়, এর উদ্দেশ্য হলো হামাসকে অবরুদ্ধ রেখে বাকি ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত করতে চাপ সৃষ্টি করা।
প্রায় দুই মাস পর বিশ্বজুড়ে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা দেখা দিলে ইসরায়েল কিছুটা অবরোধ শিথিল করলেও খাদ্য, পানি ও ওষুধের সংকট আরও তীব্র হয়েছে। অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় অনেকেই মারা যাচ্ছে, অসংখ্য মানুষ দিন কাটাচ্ছে অর্ধাহারে–অনাহারে।
গাজায় বিমান থেকে ত্রাণ ফেলা একদিকে যেমন বাস্তবিক অর্থে অপ্রতুল, তেমনি জীবনহানির ঝুঁকিপূর্ণ। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেই সহজ ও নিরাপদ স্থলপথে পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। আকাশপথে নাটকীয় ত্রাণ সরবরাহের চেষ্টা বরং পরিস্থিতিকে আরও বিভ্রান্তিকর করে তুলছে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au