ইয়েমেনে ভয়াবহ সংঘর্ষ, একদিনেই নিহত ১৪১
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত কয়েকটি…
মেলবোর্ন, ২৯ জুলাই- গাজা উপত্যকায় মানুষের খাদ্য সংকট নিয়ে মুখ খুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, গাজায় অনেক মানুষ না খেয়ে আছে, অনাহারে আছে। সোমবার স্কটল্যান্ডে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের উচিত ত্রাণ প্রবেশে আরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা। এই সংকট নিরসনে ইসরায়েলের দায়িত্ব রয়েছে এবং তারা যদি এই দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করে, তাহলে অনেক মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গাজায় খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র স্থাপন করবে। এসব কেন্দ্রে কোনো বেষ্টনী বা নিরাপত্তা দেয়াল থাকবে না, যাতে ক্ষুধার্ত মানুষ নির্বিঘ্নে ত্রাণ নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে মিলে গাজায় খাদ্য, স্যানিটারি সামগ্রীসহ বিভিন্ন মানবিক সহায়তা পাঠাবে বলেও জানান তিনি। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, এসব কেন্দ্রের বিষয়ে খুব শিগগির বিস্তারিত জানানো হবে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য একেবারে বিপরীত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আগের দিনের এক মন্তব্যের। রবিবার নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘গাজায় কোনো ক্ষুধার্ত মানুষ নেই’। সেই সঙ্গে তিনি ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। অথচ ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘সেখানে অনেক অভুক্ত মানুষ আছে’। এই অবস্থান নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত, যা ট্রাম্পের আগের অবস্থানের তুলনায় ব্যতিক্রম। কারণ, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর নেতানিয়াহুর সঙ্গেই সুর মিলিয়ে চলছিলেন ট্রাম্প।
পরে সোমবার দিনের শেষে নেতানিয়াহুও সুর নরম করেন। তিনি স্বীকার করেন, গাজার পরিস্থিতি ‘জটিল’। তিনি বলেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা চালাবে।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ‘কৌশলগত যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণা এবং ‘নিরাপদ করিডোর’ চালুর কথা বলা হলেও বাস্তবে ফিলিস্তিনিরা এখনও ক্ষুধা, অপুষ্টি ও বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, দীর্ঘদিনের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন ১৪৭ জন, যাদের মধ্যে ৮৮ জন শিশু।
সোমবারও গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৯৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪১ জন নিহত হয়েছেন ত্রাণ সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে। বাকিদের কেউ অনাহারে, কেউ অপুষ্টিতে মারা গেছেন। বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত শিশুদের ছবি ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘ক্ষুধাকে অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে। তবে নেতানিয়াহু সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, যুদ্ধ হোক বা যুদ্ধবিরতি—গাজায় ত্রাণ প্রবাহ চলবে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মতো একজন প্রভাবশালী নেতার মুখ থেকে সরাসরি গাজার ক্ষুধার্ত মানুষদের কথা উঠে আসা আন্তর্জাতিক চাপকে আরও জোরালো করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। নেতানিয়াহুর জন্যও এটি এক ধরনের কূটনৈতিক চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সুত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au