নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই- রংপুরের গঙ্গাচড়ার আলদাতপুর ছয়আনি হিন্দুপল্লিতে সাম্প্রতিক হামলার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন দুই সংবাদকর্মী। বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলামের রূঢ় আচরণ ও গ্রেপ্তারের হুমকির মুখে পড়েন দৈনিক কালবেলা-এর রংপুর প্রতিনিধি রেজওয়ান রনি এবং প্রথম আলো-এর নিজস্ব প্রতিবেদক জহির রায়হান।
দুই সাংবাদিক জানান, রোববার কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের সিঙ্গেরগাড়ি বাংলাবাজার এলাকায় মাইকিং করে হাজারো মানুষকে জমায়েত করা হয়। উত্তেজিত ওই জনতা পরে গঙ্গাচড়ার সীমান্তবর্তী হিন্দুপল্লিতে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার সময় ঘটনাস্থলে কিশোরগঞ্জ থানা থেকে অন্তত ৪-৫ জন পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এই বিষয়ে ওসি আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য নিতে গিয়ে সাংবাদিকরা থানার সামনে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। তখনই শুরু হয় অপ্রীতিকর ঘটনা। প্রথমে ওসি পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং পরে সাংবাদিকদের ‘উসকানিদাতা’ বলে গালিগালাজ শুরু করেন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, একপর্যায়ে ওসি বলেন, “উসকানি দিতে আসছে ওরা। উসকানি দিচ্ছেন আপনারা। মিয়া, সব খবর আছে আপনাদের উসকানি দেওয়ার। আপনাদের যোগ্যতা থাকলে ভালো জায়গায় কিছু করতেন।” এরপর তিনি বলেন, “চোখ দিয়ে এভাবে তাকাচ্ছেন কেন?” পাশাপাশি উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেন, “ধরেন তো এদের।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এসআই মহসিন পরিস্থিতি ঠান্ডা করার চেষ্টা করলেও ওসি তাঁকেও ধমক দিয়ে বলেন, “এই পুলিশ ডাকেন, ওদের ধরেন। প্ল্যান করছে দুজন, প্রমাণ আছে আমার কাছে।” পরবর্তীতে এসআই মহসিন দুই সাংবাদিককে থানার ভেতর থেকে নিরাপদে বের করে নিয়ে যান। তখনও ওসি সাংবাদিকদের উদ্দেশে গালাগাল করতে থাকেন বলে দাবি করেন তারা।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নীলফামারী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রিপন শেখের কাছে ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন, “আমি আধুনিক পুলিশ, সাংবাদিকদের ভয় করে চলি না। যদি চাকরি যায়, তাহলে সে চাকরি করব না। ফাইজলামো করলে সাংবাদিক হোক, পুলিশ হোক, রাজনীতিবিদ হোক, পিটিয়ে সোজা করে দেব।”
এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরপিইউজে) সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক। তিনি বলেন, “এটি শুধু সাংবাদিক লাঞ্ছনা নয়, বরং গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। দায়িত্বরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ ফ্যাসিস্ট মনোভাবের পরিচয়। জড়িত ওসিকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনতে হবে, নইলে সাংবাদিক সমাজ আন্দোলনে নামবে।”
এ বিষয়ে ওসি আশরাফুল ইসলামের কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।