গ্রামে এখনও আতঙ্ক কাটেনি; ছবিঃ ওটিএন বাংলা
মেলবোর্ন, ৩১ জুলাই- বাংলাদেশের রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলদাদপুর গ্রামের হিন্দু পল্লিতে সাম্প্রতিক হামলার ও লুটপাটের ঘটনায় নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও আশঙ্কাজনক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মহানবী (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগে এক কিশোরকে গ্রেপ্তারের পর ওই গ্রামের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হামলার আগে সংগঠিত মিছিলের উৎপত্তি স্থলে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা শুরুতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের নীরবতায় হামলাকারীরা উৎসাহিত হয়েছে। তীব্র আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় হিন্দু পরিবারগুলো। এ ঘটনায় দায়ীদের বিচার এবং পুলিশের ভূমিকায় তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক নেতারা।
২৬ জুলাই রাতে ফেসবুকে ধর্মীয় কটূক্তির অভিযোগে রঞ্জন রায় নামের এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অথচ তার পরিবারের দাবি, এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র— ভুয়া আইডি খুলে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের পরও উত্তেজনা প্রশমনের বদলে তা আরও উসকে ওঠে। ২৬ জুলাই(শনিবার) রাতে ২ দফায় হামলা করার পর পরদিন(রবিবার) বিকেলে হাজারো মানুষ কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুরা ইউনিয়ন থেকে মিছিল নিয়ে আলদাদপুরে প্রবেশ করে। পুলিশের সামনেই ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে, অথচ তারা নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় অন্তত ১৫টি পরিবারের ২২ টি ঘর।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত গঙ্গাচড়া থানা পুলিশ সদস্যরা হামলাকারীদের ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। হামলা ঠেকাতে গিয়ে একজন পুলিশ সদস্য হামলাকারীদের আক্রমণের শিকার হন। পরে তাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়। তারপরও হামলা চলতে থাকে। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, যেখানে মাইকিং করে সকাল থেকে লোকজন জড়ো করা হয়েছে সেই এলাকাটি নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের বাংলা বাজার এলাকা। মিছিলের সময় সেখানে কিশোরগঞ্জ থানার ৪-৫ জন পুলিশ ছিল। কিন্তু তারা হিন্দু গ্রামটিতে আসা আটকায়নি। অথবা এদিকে আমাদের খবরও দেয়নি। খবর দিলে সেনাবাহিনী আগেই আসতো। তখন হামলা হতো না।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরো বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। হামলার তদন্তে গিয়ে সাংবাদিকরা কিশোরগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললে ওসি আশরাফুল ইসলাম তাঁদের লাঞ্ছিত করেন, গালিগালাজ ও গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। পরবর্তীতে একজন এসআই দুই সাংবাদিককে নিরাপদে সরিয়ে নিলেও ওসি গালিগালাজ অব্যাহত রাখেন।
রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন ওসির এধরনের আচরণকে ‘গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ’ এবং ‘ফ্যাসিস্ট আচরণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত কর্মকর্তার শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এদিকে হামলার ঘটনায় অজ্ঞাত ১২০০ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার মামলা হয় গঙ্গাচড়া থানায়। ওই মামলায় যৌথবাহিনী এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। সর্বশেষ তাদের বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।