মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরও নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করতে চান আইসিসি
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও চাপের মধ্যেও নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে না আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। আদালতের প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন,…
মেলবোর্ন, ৪ আগষ্ট- ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি অর্জনের অধিকারে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে নতুন বার্তা দিল পাকিস্তান। রবিবার (৩ আগস্ট) ইসলামাবাদে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আসা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্পষ্টভাবে এই অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তির প্রশ্নে ইরানের পাশে রয়েছে পাকিস্তান।”
এই সফরকে ঘিরে ইরান-পাকিস্তান সম্পর্ক কূটনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক—তিনটি খাতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এতে সীমান্ত অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালে ইরান-পাকিস্তান বাণিজ্য ছিল আনুমানিক ২ বিলিয়ন ডলার। সেই জায়গা থেকে এটি একটি বিশাল অগ্রগতি বলে মন্তব্য করছেন বিশ্লেষকেরা।
রবিবারই ইসলামাবাদে ইরানি শিল্পমন্ত্রী মোহাম্মদ আতাবাকের সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানো এবং বিশেষত সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে অবকাঠামো ও বাণিজ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়। জাম কামাল বলেন, “ইরানের সঙ্গে আমাদের ভৌগোলিক সান্নিধ্যকে একটি অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।”
সফরের আগের দিন, শনিবার, আরও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসেরজাদে। সেখানে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আফগানিস্তান পরিস্থিতি, কাশ্মীর ও গাজা সংকট নিয়ে মতবিনিময় হয়।
এ ছাড়া ইরানের সড়ক ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফারজানা সাদিক ও পাকিস্তানের যোগাযোগমন্ত্রী আবদুল আলিম খানের মধ্যেও বৈঠক হয়, যেখানে আঞ্চলিক সংযোগ, সড়ক অবকাঠামো এবং পরিবহন ব্যবস্থায় যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ওপর দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পরও পাকিস্তানের এই ঘনিষ্ঠতা ইঙ্গিত দেয় যে ইসলামাবাদ এখন আমেরিকান বলয়ের বাইরে বিকল্প কৌশলগত মিত্রতার খোঁজ করছে। পাশাপাশি চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ব্রিকস-ভিত্তিক একটি বিশ্ব অর্থনৈতিক বিন্যাসের দিকে পাকিস্তানের ঝুঁকে যাওয়ার কৌশল হিসেবেও এই সফরকে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের একাধিক মিডিয়াও এই সফরকে ‘ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়’ বলে অভিহিত করেছে। ডন এবং সামা টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক শুধু পুনরুজ্জীবিতই হয়নি, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও পাকিস্তান উভয় দেশের মধ্যেই সরকার পরিবর্তন হয়েছে। দুই দেশই এখন বৈশ্বিক রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চায়। পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতার প্রশ্নে এই সফর অনেক দূরপ্রসারী বার্তা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানকে ঘিরে যে শঙ্কা ও সন্দেহের আবহ রয়েছে, তার মধ্যে পাকিস্তানের এই সরাসরি সমর্থন তেহরানকে কূটনৈতিকভাবে বড় একটি সুবিধা এনে দিতে পারে। একইসঙ্গে, ইসলামাবাদ নিজেও পশ্চিমা বলয়ের বাইরে বিকল্প পথ তৈরির চেষ্টা করছে—যার অংশ হিসেবেই এই সফরের গভীরতা অনুধাবন করতে হবে।
সুত্রঃ ডন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au