পেলেটে ঝাঁঝরা মুখ, তবু অনুশোচনা নেই: হাসপাতাল থেকেই যন্তর মন্তরে ফেরার ঘোষণা
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় আহত হয়েও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন ২৫ বছর…
মেলবোর্ন, ৪ আগষ্ট- মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপীড়িত দেশ ইয়েমেনের উপকূলে আবারও ঘটল মর্মান্তিক নৌকাডুবির ঘটনা। শনিবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আবিয়ান প্রদেশের শাকরা উপকূলে শরণার্থী ও অভিবাসীবোঝাই একটি নৌকা ডুবে যায়। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজ রয়েছেন আরও বহু মানুষ। ধারণা করা হচ্ছে, নৌকাটিতে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ছিলেন, যাঁদের অধিকাংশই ইথিওপিয়ার নাগরিক।
আবিয়ান প্রদেশের রাজধানী জাঞ্জিবারের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক আবদুল কাদের বাজামিল সংবাদমাধ্যমকে জানান, উদ্ধারকারী দল সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের অঞ্চল থেকে মরদেহগুলো সংগ্রহ করেছে। জীবিত উদ্ধার করা ১২ জনকে স্থানীয় শাকরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাঁদের অনেকেই শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ। জীবিতদের ভাষ্যমতে, ঝোড়ো আবহাওয়ার মধ্যে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং নৌকাটি প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে উল্টে যায়।
স্থানীয় প্রশাসন নিহতদের দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আবহাওয়া খারাপ থাকা সত্ত্বেও নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের দরিদ্র ও সংঘাতবিধ্বস্ত দেশ—বিশেষ করে ইথিওপিয়া ও সোমালিয়ার হাজারো মানুষ প্রতিবছর ইয়েমেন হয়ে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় উন্নত দেশগুলোর দিকে পাড়ি জমাতে চায়। এ পথে পাড়ি দিতে গিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের খপ্পরে পড়েন। অল্প খরচে, অত্যন্ত অনিরাপদ, গাদাগাদি নৌকায় করে তারা লোহিত সাগর বা এডেন উপসাগর পেরোনোর চেষ্টা করে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বলেছে, ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যাওয়ার নৌপথ বিশ্বে অন্যতম ব্যস্ত ও বিপজ্জনক। ২০১৪ সাল থেকে শুরু হওয়া ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এরপর ২০২২ সালের একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সহিংসতা কিছুটা কমলেও মানবিক সংকটের তীব্রতা দূর হয়নি।
শুধু আফ্রিকা থেকেই নয়, ২০১৪ সালের পর থেকে ইয়েমেনের নিজস্ব নাগরিকদের মধ্যেও শরণার্থী হয়ে দেশ ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। একদিকে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষ, অন্যদিকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়, খাদ্যাভাব ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বহু মানুষ জীবন বাঁচাতে দেশ ছেড়েছে। অনেকেই আশ্রয়ের আশায় ইউরোপে পৌঁছাতে চাইলেও অধিকাংশই আটকে পড়েন মধ্যপ্রাচ্যেই।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহায়তা না থাকলে এসব বিপজ্জনক যাত্রা বন্ধ করা কঠিন হবে। বিশেষ করে মানবপাচার চক্র দমন এবং নিরাপদ অভিবাসনের পথ সুগম না করা গেলে প্রতিবছরই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। এই পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি ও যৌথভাবে সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au