পেলেটে ঝাঁঝরা মুখ, তবু অনুশোচনা নেই: হাসপাতাল থেকেই যন্তর মন্তরে ফেরার ঘোষণা
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় আহত হয়েও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন ২৫ বছর…
মেলবোর্ন , ৪ আগষ্ট- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখনো আধিপত্য, দখল ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি বজায় রেখেছে। সোমবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘নতুন বাংলাদেশ : কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছর’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি এ মন্তব্য করে।
প্রতিবেদনে উঠে আসে, ঢাকা শহরের ৫৩টি পরিবহন স্ট্যান্ড ও টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এই অর্থ সংগ্রহ হচ্ছে মূলত রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় পরিচালিত দখলদার ও চাঁদাবাজ চক্রের মাধ্যমে। টিআইবির মতে, এটি প্রমাণ করে, সরকার পরিবর্তনের পরও রাজনৈতিক দখলদারির সংস্কৃতিতে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আসেনি।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে সরকার পরিবর্তনের পরও আমরা শাসনব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কার দেখছি না। বরং পুরনো কায়দায় প্রশাসনিক ও বিচারিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়েছে।”
বিচার বিভাগেও রাজনৈতিক প্রভাব
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচার বিভাগের কাঠামোগত সংস্কার হয়নি। আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে এখনো রাজনৈতিক আনুগত্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে কাজ করছে। এতে বিচারকার্যের মান ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় না এনে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আদালত প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, আইনজীবীদের হয়রানি ও বিচার কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগও তুলে ধরেছে টিআইবি। কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার তড়িঘড়ি করে সম্পন্ন করার প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
পুলিশের বিরুদ্ধে বিপুল অভিযোগ
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত ১১ মাসে পুলিশের বিরুদ্ধে সারা দেশে মোট ৭৬১টি মামলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। এতে আসামি করা হয়েছে ১ হাজার ১৬৮ জন পুলিশ সদস্যকে। এদের মধ্যে ৬১ জন এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন।
টিআইবি জানায়, রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার ঘটনায় ১ হাজার ৬০২টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ৬৩৮টিই হত্যা মামলা। এসব মামলায় সাবেক সরকারের আনুমানিক ৮৭ জন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এখনো গ্রেপ্তার রয়েছেন।
সংস্থাটির তথ্যমতে, এসব মামলার মধ্যে ৭০ শতাংশের তদন্তে ‘সন্তোষজনক অগ্রগতি’ আছে বলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভাষ্য। প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি হত্যা মামলার তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন
প্রতিবেদনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, সরকার পতনের পরও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি। বরং ভিন্ন কৌশলে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার হয়েছে। আগস্ট ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে অন্তত আটটি জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, ১১টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বার্তা প্রধান এবং ১৫০ জন সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন।
টিআইবি মনে করে, এই সময়ে সাংবাদিকদের ওপর একধরনের নীরব চাপ, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং অর্থনৈতিক দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়েছে।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের আহ্বান
সংস্থাটি মনে করে, কেবল সরকার পরিবর্তন নয়, প্রয়োজন গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার—বিচার বিভাগ থেকে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সংস্কৃতি পর্যন্ত। না হলে ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
টিআইবি বলছে, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি বন্ধ করতে না পারলে নতুন সরকারের ওপর মানুষের আস্থা গড়ে উঠবে না। সংস্থাটি শাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au