যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট- গাজায় ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীর ৬০০’র বেশি অবসরপ্রাপ্ত শীর্ষ কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের সাবেক প্রধানরাও রয়েছেন। এক খোলাচিঠিতে তারা ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর চাপ সৃষ্টি করে গাজায় যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
সোমবার (৪ আগস্ট) চিঠিটি একযোগে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, “বর্তমানে হামাসকে আমরা ইসরায়েলের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো বড় হুমকি হিসেবে মনে করি না। বরং এই যুদ্ধ চলতে থাকলে আমাদের রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে।”
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “ইসরায়েলিদের একটি বড় অংশের কাছে আপনি (ট্রাম্প) বিশ্বাসযোগ্য একজন নেতা। আপনি যদি নেতানিয়াহুকে সঠিক পথে চালনা করতে উদ্যোগী হন, তবে তাতে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—উভয়পক্ষের দুর্ভোগ কমবে। যুদ্ধ থামান, জিম্মিদের ফিরিয়ে আনুন, গাজার মানুষকে বাঁচান।”
এই চিঠিটি এমন সময়ে এসেছে যখন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গাজায় সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন। হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনা কার্যত স্থগিত। প্রতিদিন গাজায় ইসরায়েলের আকাশ ও স্থল হামলায় অসংখ্য ফিলিস্তিনি নিহত হচ্ছেন।
প্রাণহানির ভয়াবহতা
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর ইসরায়েল ‘পূর্ণ যুদ্ধ’ ঘোষণা করে। এরপর টানা ১০ মাস ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬১ হাজার ফিলিস্তিনি। নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যকই নারী ও শিশু।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি এখনও মারাত্মক। ছবিঃ রয়টার্স
রোববার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শুধু আগের ২৪ ঘণ্টায়ই অনাহারে মারা গেছেন আরও ছয়জন। এ নিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৭৫ জনে, যার মধ্যে ৯৩ জন শিশু। অঞ্চলজুড়ে তীব্র খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট চলছে।
ত্রাণ পরিস্থিতি ভয়াবহ
ইসরায়েলি সামরিক অবরোধের কারণে গাজায় ত্রাণ প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ১,২০০ ট্রাকের মাধ্যমে ২৩ হাজার টনের বেশি মানবিক সহায়তা গাজায় প্রবেশ করেছে। কিছু ত্রাণ বিমান থেকেও ফেলা হচ্ছে।

গাজায় খাবারের জন্য হাহাকার। ছবি : সংগৃহীত
তবে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর দাবি, এসব সহায়তা মোটেই যথেষ্ট নয়। প্রায় ২২ লাখ গাজাবাসীর অনাহার ঠেকাতে আরও বৃহত্তর পরিসরে ত্রাণ প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে রাফা, কেরেম শালোম ও অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়ে ত্রাণ প্রবেশে সহজ প্রবেশাধিকার না থাকায় পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে।
নেতানিয়াহুর নীতির বিরুদ্ধেই সাবেক কর্মকর্তাদের চিঠি
বিশ্লেষকরা বলছেন, একসঙ্গে ৬০০’র বেশি সাবেক সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার এমন অবস্থান নেওয়া নজিরবিহীন। এতে স্পষ্ট যে, ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে নেতানিয়াহুর যুদ্ধকেন্দ্রিক কৌশলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা এখন শান্তিপূর্ণ সমাধান ও মানবিক বিপর্যয় এড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যস্থতায় আহ্বান জানাচ্ছেন।
তবে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প কীভাবে এই চাপ মোকাবিলা করবেন, তা আগাম বলা কঠিন। তবে এই চিঠি গাজা পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে আরও বেশি করে তুলে ধরার একটি তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ বলেই মনে করছেন অনেকেই।
সুত্রঃ রয়টার্স