মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরও নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করতে চান আইসিসি
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও চাপের মধ্যেও নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে না আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। আদালতের প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন,…
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট- সীমান্তে পাঁচ দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর এক সপ্তাহ পার না হতেই মালয়েশিয়ায় শান্তি আলোচনা শুরু করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দুই দেশ কেম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড। সোমবার (৪ আগস্ট) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে উভয় দেশের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই আলোচনা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের জেনারেল বর্ডার কমিটি (জিবিসি) বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই বৈঠকে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিরা।
গত সোমবার মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উপস্থিতিতে কেম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এর আগে টানা পাঁচ দিন সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪৩ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং উভয় পক্ষের তিন লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। এই সংঘর্ষে কামান, যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য ভারী অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছিল—যা গত এক দশকের মধ্যে এই অঞ্চলের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ।

থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী ৮৬টি গ্রাম থেকে প্রায় ৪০ হাজার বেসামরিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ছবিঃ এএফপি
যদিও সাম্প্রতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে শান্তির আশাবাদ দেখা দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা বলছে—উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কেম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, থাইল্যান্ড যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে। তারা একটি বিরোধপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এক্সকাভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে কাজ করছে এবং কাঁটাতারের বেড়া বসাচ্ছে।
অন্যদিকে থাইল্যান্ডের দাবি, উভয় দেশই সীমান্তে তাদের অবস্থান বজায় রেখেছে এবং নতুন করে কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেয়নি। তবে থাই নৌবাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল সুরাসান্ত কংসিরি জানিয়েছেন, “খবরে জানা যাচ্ছে, কেম্বোডিয়া তাদের সেনাবাহিনীর অবস্থান কিছুটা পরিবর্তন করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সেনা সংখ্যা বাড়িয়েছে—বিশেষ করে যেসব এলাকায় সৈন্যদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেখানে।”

থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর দাবি, সংঘর্ষের সূচনা করে কম্বোডিয়ার সেনারা। ছবিঃ এএফপি
আরেকটি বড় ইস্যু হলো বন্দি সৈন্য। কেম্বোডিয়া সরকার থাইল্যান্ডের কাছে দাবি জানিয়েছে, যেন তাদের ১৮ জন বন্দি সৈন্যকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে থাই সরকার জানিয়েছে, এসব সৈন্যদের ‘যুদ্ধবন্দি’ হিসেবে ভালোভাবে রাখা হয়েছে এবং “কেবলমাত্র পূর্ণাঙ্গ সংঘাত-সমাপ্তির পর”—শুধু যুদ্ধবিরতি নয়—তাদের মুক্তি দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও আস্থা পুনর্গঠন। কারণ যুদ্ধবিরতি খুব দ্রুত ভঙ্গ হতে পারে, যদি উভয় পক্ষ সীমান্তে উসকানিমূলক তৎপরতা চালিয়ে যায় বা আলোচনার বাইরে চলে যায়।
আলোচনার পর্যবেক্ষক দেশগুলো—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—এই অঞ্চলে তাদের প্রভাব ধরে রাখার পাশাপাশি সংঘাত বন্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। বৃহস্পতিবারের বৈঠক থেকে একটি স্থায়ী শান্তির রূপরেখা বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন কূটনৈতিক মহল। তবে সবকিছু নির্ভর করছে উভয় দেশের আন্তরিকতা, আস্থা ও ঐকমত্যের ওপর।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au