রাশিয়ার কাছাকাছি দুটি পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন মোতায়েনের প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মস্কো। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট- রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১৯৮৭ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস’ (আইএনএফ) থেকে সরে দাঁড়িয়েছে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে রাশিয়ার কাছাকাছি দুটি পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন মোতায়েনের প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মস্কো।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সোভিয়েত আমলে যে পরিস্থিতিতে তারা চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছিল, বর্তমানে সেই প্রেক্ষাপট আর বিদ্যমান নেই। বরং এখন ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলো রাশিয়ার ভৌগলিক নিরাপত্তা ও অখণ্ডতার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। ফলে রাশিয়া আর আইএনএফ চুক্তির আওতায় থাকতে পারছে না।
এই বিবৃতির সত্যতা স্বীকার করেছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমানে রাশিয়ান সিকিউরিটি কাউন্সিলের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি বলেন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর রাশিয়াবিরোধী অবস্থান এবং বক্তব্যের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ মস্কোর জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছে।
১৯৮৭ সালের আইএনএফ চুক্তির মূল শর্ত ছিল— যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া কেউ কারও দিকে মাঝারি পাল্লার পরমাণু অস্ত্র তাক করে রাখবে না। কিন্তু এই চুক্তি কার্যত ভেঙে ফেলেছেন ট্রাম্প। ১ আগস্ট তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ঘোষণা দেন, রাশিয়ার কাছে ‘উপযুক্ত স্থানে’ তিনি দুটি পরমাণু অস্ত্রবাহী সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, মেদভেদেভের সাম্প্রতিক বক্তব্য ছিল অত্যন্ত উসকানিমূলক। তিনি সতর্ক করে বলেন, “নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ কথাবার্তার পরিণতি খুব বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ শব্দেরও শক্তি আছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদের দিকে নিয়ে যেতে পারে।”
মেদভেদেভ অবশ্য পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “ট্রাম্প এখন রাশিয়ার সঙ্গে আল্টিমেটাম খেলার চেষ্টা করছেন, যা হাস্যকর এবং অবাস্তব। রাশিয়া এসব নাটক পাত্তা দেয় না। বরং, প্রতিটি নতুন আল্টিমেটাম আমাদের যুদ্ধের আরও কাছে নিয়ে যাচ্ছে।”
এর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প রাশিয়াকে ১০ থেকে ১২ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন, যার কঠোর সমালোচনা করেছিলেন মেদভেদেভ। এরপরই ট্রাম্প সাবমেরিন মোতায়েনের নির্দেশ দেন এবং তার দুই দিনের মাথায় রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আইএনএফ চুক্তি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও সামরিক প্রস্তুতি বিশ্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বহুদিনের কূটনৈতিক ভারসাম্য ভেঙে নতুন এক শীতল যুদ্ধের আবহ তৈরি হচ্ছে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
সুত্রঃ এনডিটিভি ওয়াল্ড