পেলেটে ঝাঁঝরা মুখ, তবু অনুশোচনা নেই: হাসপাতাল থেকেই যন্তর মন্তরে ফেরার ঘোষণা
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় আহত হয়েও আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন ২৫ বছর…
মেলবোর্ন, ১০ আগষ্ট- বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পূর্ণোদ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে প্রয়োজনীয় সব কেনাকাটার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহেই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভোটের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ৫, ৮ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় রয়েছে। যদিও ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারিও তালিকায় রাখা হয়েছে, তবে কমিশনের কর্মকর্তারা ৫, ৮ ও ১২ ফেব্রুয়ারিকেই বেশি উপযুক্ত মনে করছেন। এ তারিখগুলো নিয়ে শিগগিরই কমিশন সভায় আলোচনা হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পূর্বের অভিজ্ঞতা অনুসারে, গত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর থেকে সর্বনিম্ন ৩৭ দিন এবং সর্বোচ্চ ৬৮ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সে হিসেবে এবারের নির্বাচনের ভোট যদি ৫ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হয়, তাহলে তফসিল ঘোষণার সম্ভাব্য সময় হতে পারে ৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে। ইসি ইতোমধ্যে জানিয়েছে, নভেম্বরের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ অন্যান্য সব প্রস্তুতি শেষ করা সম্ভব হবে, তাই ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা প্রবল।
ভোটের দিন চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে রমজান মাসের সময়ও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবে আগামী বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে। ইসি চাইছে নির্বাচনের পর অন্তত ১০ দিন হাতে রাখতে, যাতে ভোটের দিন কোনো কেন্দ্রে বা আসনে অনিয়মের কারণে ভোট স্থগিত হলে দ্রুত এক সপ্তাহের মধ্যে পুনঃভোট নেওয়া যায় এবং রমজানের আগেই ফল গেজেট প্রকাশ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। এছাড়া শবে বরাতের সম্ভাব্য তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি হওয়ায় এর আগে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা নেই, বরং শবে বরাতের পর থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধের মধ্যে ভোট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি ৫ ফেব্রুয়ারি শবে বরাতের বন্ধ পড়ে, তাহলে ৮ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা আগেই জানিয়েছেন, রোজার আগে ভোট হবে। গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটের কথা বলেছেন। শনিবার রংপুরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনও একই সময়সীমার ইঙ্গিত দেন। তবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, চূড়ান্ত তারিখ নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে, আগামী সভার পর পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশে এর আগে মোট ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি চারবার এবং জাতীয় পার্টি দুইবার সরকার গঠন করেছে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ ও দ্বাদশ সংসদ তাদের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি, তবে পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম ও একাদশ সংসদ পূর্ণ মেয়াদ শেষ করেছে। সর্বাধিক ভোট পড়েছে ২০০৮ সালের নবম নির্বাচনে, যেখানে ভোটের হার ছিল ৮৭ শতাংশ, আর সর্বনিম্ন ভোট পড়েছে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ নির্বাচনে, যেখানে ভোটের হার ছিল মাত্র ২৬.৫৪ শতাংশ। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ, যেখানে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জয়ী হয়। সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি, যেখানে আওয়ামী লীগ ২২২ আসন, জাতীয় পার্টি ১১ আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২ আসনে জয়লাভ করে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এখন পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। রমজানের আগে নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা, শবে বরাতের ছুটির সমন্বয় এবং পূর্ববর্তী নির্বাচনের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে ভোটগ্রহণের সময়সীমা ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ইসির প্রাথমিক ধারণা। এখন শুধু অপেক্ষা চূড়ান্ত ঘোষণার।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au