নিজেদের স্বার্থেই রাশিয়ার তেল কেনে ভারত: রুশ রাষ্ট্রদূত
রাশিয়ার তেল ভারত নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই কেনে, রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে সহায়তা করার জন্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে…
মেলবোর্ন, ১২ আগষ্ট- ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউরোপীয় নেতাদের জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন কোনো প্রস্তাব তারা গ্রহণ করবেন না, যেখানে ইউক্রেনকে নতুন করে অতিরিক্ত ভূমি ছাড়তে হবে। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া, খেরসন ও ক্রিমিয়া অঞ্চল রাশিয়ার কাছেই থাকতে পারে। এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের বর্তমান ফ্রন্টলাইন স্থির থাকবে এবং ওই এলাকাগুলো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
আগামী শুক্রবার(১৫ আগষ্ট) আলাস্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন ইস্যুতে বৈঠক করবেন। বৈঠকের আগে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের অবস্থান কিছুটা নরম হয়েছে। তবে ইউরোপীয় নেতারা আশঙ্কা করছেন, জেলেনস্কির মতামত ছাড়াই ট্রাম্প ও পুতিন যুদ্ধবিরতির চুক্তি করে ফেলতে পারেন। এ আশঙ্কায় তারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছেন এবং সেখানেই রুশ দখলে থাকা অঞ্চল নিয়ে আপোষের সম্ভাবনা উঠে এসেছে।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেছেন, ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের আগে মার্কিন কর্মকর্তারা ইউরোপের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে তিনি আশা করেন। মস্কোর পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত এক শান্তি পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনে বর্তমান ফ্রন্টলাইন অপরিবর্তিত থাকবে, যদি কিয়েভ কিছু এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করে। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলছেন, পুতিন এখনো ইউক্রেনে মস্কোপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠা, ন্যাটোতে যোগদান রোধ এবং ইউক্রেনকে অস্ত্রহীন করার লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি।
জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া যুদ্ধ শেষের প্রস্তুতি নিচ্ছে না, বরং নতুন হামলার জন্য সেনা সরাচ্ছে। ইউক্রেন কিছু এলাকা ছাড়তে রাজি হলেও এর বিনিময়ে পর্যাপ্ত অস্ত্রসহ শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং ন্যাটো সদস্যপদ চাইছে। ইউরোপের বহু দেশ এই অবস্থানকে সমর্থন দিয়েছে, যাতে ট্রাম্প বুঝতে পারেন ইউক্রেন ও ইউরোপ একসঙ্গে অবস্থান করছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্ৎসও একই মত পোষণ করেছেন। তাদের মতে, শান্তি আলোচনা শুরু হওয়া উচিত বর্তমান ফ্রন্টলাইন থেকে। আগামী বুধবার ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করবেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলাস্কার বৈঠকে পুতিনের সঙ্গে ইউক্রেনের কিছু ভূমি ফেরত আনার চেষ্টা করবেন। তবে ইউরোপীয় নেতারা মনে করছেন, অনেক ইউক্রেনীয় যুদ্ধ বন্ধ করতে কিছু এলাকা ছাড়তে প্রস্তুত হলেও অতিরিক্ত জমি হারালে কিয়েভের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের কিছু অংশ দখল করে রেখেছে, তবে এটি কখনোই আইনগতভাবে স্বীকৃত হবে না।
জেলেনস্কি উল্লেখ করেছেন, আগে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলের কিছু জমি বিনিময়ের প্রস্তাব থাকলেও রাশিয়া তা দখল করে নিয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, সামরিকভাবে এসব জমি ফেরত পাওয়া কঠিন হলেও কূটনৈতিক পথে তা সম্ভব। বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভূখণ্ডের প্রায় ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করলেও সতর্ক করে দিয়েছেন, কোনো সমঝোতা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। তাদের মতে, ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে। তারা ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সুত্রঃ টেলিগ্রাফ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au