নিজেদের স্বার্থেই রাশিয়ার তেল কেনে ভারত: রুশ রাষ্ট্রদূত
রাশিয়ার তেল ভারত নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই কেনে, রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে সহায়তা করার জন্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে…
মেলবোর্ন, ১৩ আগষ্ট- জাতিসংঘের সমর্থিত একটি স্বাধীন তদন্ত দল মিয়ানমারের বিভিন্ন বন্দিশিবিরে গত এক বছরে ঘটে যাওয়া নিষ্ঠুর নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার ব্যাপক প্রমাণ পেয়েছে। এসব নির্যাতনের মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, শ্বাসরোধ করা, দলবদ্ধ ধর্ষণ এবং যৌনাঙ্গ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো বর্বরতা।
মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে তদন্ত দলের প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান এই তথ্য জানান। প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে সেনাবাহিনী ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নেয়। এর পর দেশটিতে ব্যাপক অশান্তি এবং গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ওপর নৃশংস দমন-পীড়নের পর অনেক মানুষ সেনাশাসনের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয়। মিয়ানমারের বড় অংশে এখনো সংঘর্ষ চলছে।
জাতিসংঘের তদন্ত দল জানিয়েছে, বন্দি কেন্দ্রে অভিযান পরিচালনায় জড়িত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের শনাক্তকরণে ভালো অগ্রগতি হয়েছে। এছাড়া যোদ্ধা ও তাদের সহযোগীদের বিচার ছাড়া হত্যার জন্য দায়ী অপরাধীদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব অপরাধীদের মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী, মিলিশিয়া এবং বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা।
প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে বন্দিশিবিরে যে নির্যাতন চালানো হয়েছে, তাতে রয়েছে মারধর, বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, শ্বাসরোধ, দলবদ্ধ ধর্ষণ ও যৌনাঙ্গ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নিষ্ঠুর যৌন সহিংসতা।
নিকোলাস কুমজিয়ান বলেন, মিয়ানমারে নারকীয় নির্যাতনের ঘটনা ও নির্মমতা ক্রমবর্ধমান, যা আমরা বিশেষভাবে প্রতিবেদনে তুলে ধরেছি। তিনি বলেন, “আমরা এমন এক দিনের জন্য কাজ করছি, যখন এই অপরাধীদের তাদের কৃতকর্মের জন্য আদালতে মুখোমুখি হতে হবে।”
তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন, যা থেকে বোঝা যায় যে বন্দিশিবিরে নির্যাতন পরিকল্পিতভাবে চালানো হচ্ছে।
তদন্ত দল রাখাইন রাজ্যের সম্প্রদায়গুলোর বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতা নিয়ে নতুন তদন্ত শুরু করেছে। সেখানে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বিরোধী আরাকান আর্মির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে।
২০১৭ সালে রাখাইনে নৃশংস নিপীড়নের হাত থেকে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। গত বছর রাখাইনে তীব্র সংঘর্ষের কারণে আরও প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে।
২০১৮ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের অধীনে গঠিত ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম’ মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করছে। তারা রোহিঙ্গা সংক্রান্ত তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে সরবরাহ করেছে।
এই তদন্ত প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট যে মিয়ানমারে বন্দিশিবিরগুলোতে নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার ঘটনা একটি পরিকল্পিত ও ব্যাপক মাত্রায় চালানো হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর নজির হিসেবে বিবেচিত হবে।
সুত্রঃ ইউএনবি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au