মিস ওয়ার্ল্ডে তৃতীয় হয়ে সাফল্য মালয়েশিয়াকে উৎসর্গ তানুসিয়ার
মিস ওয়ার্ল্ড ২০২৬ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করে নিজের সাফল্য মালয়েশিয়ার জনগণকে উৎসর্গ করেছেন দেশটির প্রতিযোগী তানুসিয়া চেট্টি। ভিয়েতনামের ন্যা ট্রাংয়ে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে তৃতীয়…
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট- ইসরায়েলি বাহিনী পুরো গাজা দখলের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে। যদিও অভিযান শুরুর নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানানো হয়নি, তবে তিন দিন ধরে গাজা নগরী ও আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলোতে অবিরাম বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার বাহিনী। ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে ফেলা হচ্ছে, এবং নতুন করে বাস্তুচ্যুতির ঢেউ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ইসরায়েল দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ফিলিস্তিনিদের জোর করে সেখানে স্থানান্তরের বিষয়ে—যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে জাতিগত নির্মূলের সমতুল্য। আশঙ্কা, একবার যাদের সরানো হবে, তাদের আর গাজায় ফিরতে দেওয়া হবে না।
যুক্তরাজ্য, ইইউ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপানসহ ২৬টি দেশ যৌথ বিবৃতিতে যুদ্ধ বন্ধ ও অনাহার নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে। তারা নেতানিয়াহুর বাহিনীকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ার পক্ষেও মত দিয়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে ইসরায়েলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির গাজা দখলের জন্য বড় ধরনের নতুন হামলার রূপরেখায় অনুমোদন দিয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ২১ জন ছিলেন ত্রাণের জন্য লাইনে দাঁড়ানো। একই সময়ে অপুষ্টি ও অনাহারে মারা গেছেন আরও আটজন। ক্ষুধায় মৃত্যুর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫-এ, যার মধ্যে ১০৬টি শিশু। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ৭২২ জনে, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫২৫ জন।
গাজা শহর দখল ও প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনার মধ্যে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনার জন্য হামাসের একটি প্রতিনিধি দল মিসরে পৌঁছেছে। হামাসের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী সম্পূর্ণ শহর দখলের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এক হামাস কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, তারা গাজার শাসন ব্যবস্থার দায়িত্ব ছেড়ে দিতে প্রস্তুত, তবে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে অস্ত্র সমর্পণ করবে না।
গাজা সীমান্ত পরিদর্শন শেষে নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্ক এবং আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসন বলেন, “গাজায় শুধু মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষই নয়, বরং একটি গণহত্যাও চলছে।”
বাসিন্দা মাজেদ আল-হোসারি জানিয়েছেন, প্রতিদিন আকাশ থেকে অবিরাম বোমা পড়ছে, প্রতিটি বিস্ফোরণে মাটি কেঁপে উঠছে। ২৫ বছর বয়সী আমর সালাহ বলেন, মনে হচ্ছে দখলদার বাহিনী হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে; পূর্ব গাজার রাস্তাগুলোতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে যার মধ্যে রয়েছে হাইফা, নেগেভ, উম্মে আল-রাশরাশ এবং বেয়ারশেবা।
মাক্কাবি হেলথকেয়ার সার্ভিসেসের এক জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধের কারণে ৫০% ইসরায়েলি প্রয়োজন মতো ঘুমাতে পারছেন না। ১,১০০ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে বহুজন ঘুমহীনতা, উদ্বেগ, অবসাদ, আতঙ্ক এবং শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির মতো সমস্যার কথা জানিয়েছেন।
মার্কিন শিশু বিশেষজ্ঞ ইউসুফ গাজাকে “মৃত্যুফাঁদ” আখ্যা দিয়েছেন। জর্দান থেকে আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গাজা যেন একটি খাঁচা, যেখানে মানুষকে মৃত্যুর জন্য নির্ধারিত করা হচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই তিনি জিএইচএফ পরিচালিত ত্রাণকেন্দ্রগুলোতে ক্ষুধার্তদের ওপর হামলা হতে দেখেছেন।
এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে ইসরায়েলের দখল অভিযান ও জোরপূর্বক স্থানান্তরের পরিকল্পনা গাজাবাসীর জন্য আরও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au