চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) লোগো। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট- চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজের ওয়াকিটকিতে দেওয়া নির্দেশনার গোপন বার্তা ফাঁসের অভিযোগে অমি দাশ নামে এক কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে সিএমপির খুলশী থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা হয়েছে।
অমি দাশ সিএমপির টেলিকম ইউনিটের সদস্য এবং প্রেষণে খুলশী থানায় কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়ায়। বাবার নাম রাজিব দাশ। বিষয়টি সিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ১১ আগস্ট রাতের দিকে। সল্টগোলা ক্রসিং ইশান মিস্ত্রি হাট এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশ সেখানে পৌঁছে। তখন বিক্ষোভকারীদের হামলায় বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ গুরুতর আহত হন। এর পরদিন রাতে কমিশনার হাসিব আজিজ ওয়্যারলেসে সব সদস্যকে কঠোর নির্দেশ দেন।
তার নির্দেশনায় বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে যে প্রাধিকার ছিল, সেই অনুযায়ী থানার মোবাইল ও পেট্রোল পার্টি, ডিবি টিমসহ সব ফোর্স আগ্নেয়াস্ত্র ও লাইভ অ্যামুনিশন নিয়ে মাঠে নামবে। শুধুমাত্র রাবার বুলেটে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, “কোনো মোবাইল বা পেট্রোল পার্টির সামনে যদি অস্ত্র তোলা হয়—যেটা ধারালো বা আগ্নেয়াস্ত্র যাই হোক না কেন—দেখামাত্র গুলি চালাতে হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন, আত্মরক্ষার অধিকার দণ্ডবিধির ৯৬ থেকে ১০৬ ধারা অনুযায়ী পুলিশের রয়েছে। তাই পুলিশের কোনো টহল টিম যেন অস্ত্র ছাড়া বা সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়া মাঠে না নামে। কমিশনারের এই নির্দেশই ওয়াকিটকির মাধ্যমে ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
বার্তাটি বাইরে চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়ে সিএমপি। গোপনীয় নির্দেশ ফাঁস হওয়ায় একাধিক তদন্ত দল কাজ শুরু করে এবং অবশেষে কনস্টেবল অমি দাশকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়।