তীব্র হচ্ছে দিল্লির বিক্ষোভ, সকালে বিশেষ ঘোষণা দিলেন মোদি
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। জন্তর মন্তরে চলমান এই আন্দোলনে…
মেলবোর্ন, ২৪ আগষ্ট- রাষ্ট্রীয় অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে। শুক্রবার গ্রেপ্তারের পর শনিবার (১৭ আগস্ট) শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কলম্বোর ন্যাশনাল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়।
কলম্বো ন্যাশনাল হাসপাতালের উপ-মহাপরিচালক রুকশান বেল্লানা এএফপিকে জানান, রিমান্ডে নেওয়ার পর থেকে বিক্রমাসিংহে তীব্র পানিশূন্যতায় ভুগছিলেন। তার গুরুতর ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি করার সময় অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠলেও বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল আছেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারাগারের চিকিৎসা কেন্দ্রে তার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব ছিল না বলেই তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার কলম্বোর অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বিক্রমাসিংহেকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কিউবার হাভানায় জি-৭৭ সম্মেলন ও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিয়ে ফেরার পথে যুক্তরাজ্যে ব্যক্তিগত সফর করেন এবং ওই সফরের খরচ বাবদ ১ কোটি ৬৬ লাখ রুপি (প্রায় ৫৫ হাজার ডলার) সরকারি অর্থ ব্যবহার করেন। তার স্ত্রী মৈত্রি বিক্রমাসিংহের উলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক অধ্যাপনা গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই এই সফর হয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং আত্মসাৎকৃত অর্থের তিনগুণ পর্যন্ত জরিমানার শাস্তি হতে পারে। তবে বিক্রমাসিংহে দাবি করেছেন, স্ত্রীর ভ্রমণ ব্যয় তিনি নিজেই বহন করেছেন, সরকারি অর্থ ব্যবহার করেননি।
বিক্রমাসিংহের গ্রেপ্তারের ঘটনায় শ্রীলঙ্কার বিরোধীদলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছে। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নালিন বান্দারা শনিবার কারাগারে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার প্রধান বিরোধী দল সমাজি জনা বালাওয়েগায়ার (এসজেবি) ও বিক্রমাসিংহের দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি (ইউএনপি) বলছে, সরকার আশঙ্কা করছে তিনি আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারেন বলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইউএনপির মহাসচিব থালাথা আতুকোরালা বলেন, “সরকার তাকে ভয় পাচ্ছে।”
৭৬ বছর বয়সী বিক্রমাসিংহে গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতীয় নির্বাচনে বামপন্থি নেতা অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কাছে হেরে যান। নির্বাচিত কোনো পদে না থাকলেও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। এর আগে ২০২২ সালে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের সময় গোটাবায়া রাজাপাকসে পদত্যাগ করলে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন বিক্রমাসিংহে। তার নেতৃত্বে সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ২.৯ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিশ্চিত করে এবং কর বৃদ্ধি ও ভর্তুকি প্রত্যাহারের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেয়।
বর্তমানে দিসানায়েক নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে সাবেক দুই মন্ত্রীকে সর্বোচ্চ ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসের পরিবারের কয়েকজন সদস্যও দুর্নীতির মামলার আসামি। সম্প্রতি দেশটির পুলিশ প্রধানকেও অভিশংসিত করা হয়েছে এবং কারা প্রধান দুর্নীতির অভিযোগে দণ্ডিত হয়েছেন।
সূত্র: এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au