ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৪ আগষ্ট- ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা এখনও চলছে, তবে কিছু বিষয়ে নিজেদের অবস্থান রক্ষা করতে হবে। এ ঘোষণা আসছে এমন এক সময়ে, যখন রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি শুল্ক আরোপের পথে।
এরই মধ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। বাকি ২৫ শতাংশ শুল্ক ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ২৫ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত মার্কিন বাণিজ্য আলোচকদের নয়াদিল্লি সফর বাতিল হয়েছে, যা নিয়ে শুল্ক প্রত্যাহার বা বিলম্বিত হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে।
শনিবার নয়াদিল্লিতে ইকোনমিক টাইমস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর বলেন, “এই আলোচনায় আমাদের কিছু সীমারেখা আছে, যা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।” তিনি বিশেষভাবে কৃষক ও ক্ষুদ্র উৎপাদকদের স্বার্থকে সামনে আনেন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যায়, কারণ ভারত তার কৃষি ও দুগ্ধ খাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উন্মুক্ত করতে রাজি হয়নি। বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র এবং পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১৯০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
জয়শঙ্কর বলেন, “জাতীয় স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আমাদের আছে।”
ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণ শুল্ক কার্যকর করে এবং তা বহাল থাকে, তবে এ বছর ও আগামী বছরে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ০.৮ শতাংশ কমে যাবে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে, কারণ উচ্চ শুল্ক ভারতের বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হওয়ার আকর্ষণ কমিয়ে দেবে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ঘোষণাকে “অস্বাভাবিক” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগে দেখিনি, যিনি এত প্রকাশ্যে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করেন। এটি প্রচলিত কূটনৈতিক রীতির থেকে ভিন্ন।”
জয়শঙ্কর আরও অভিযোগ করেন, ভারতের রাশিয়ার তেল কেনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ জানালেও একইভাবে চীন বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বড় ক্রেতাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি তুলছে না। তাঁর ভাষায়, “যদি যুক্তি তেল কেনা নিয়ে হয়, তবে আরও বড় ক্রেতা আছে। আর যদি যুক্তি হয় কে বেশি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করছে, তবে আরও বড় বাণিজ্যকারী আছে।”
তিনি যোগ করেন, রাশিয়া-ইউরোপের বাণিজ্যের পরিমাণ ভারত-রাশিয়া বাণিজ্যের তুলনায় অনেক বড়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের রাশিয়ার তেল আমদানি নিয়ে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কোনো কথা ওঠেনি, বরং বিষয়টি সামনে এসেছে হঠাৎ শুল্ক ঘোষণার পর।
সুত্রঃ রয়টার্স