দেশের দারিদ্র্যের হার দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে তিন বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)-এর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বর্তমানে দেশের দারিদ্র্যের হার দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে। ২০২২ সালে এ হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
সোমবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এলজিইডি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সমীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। গবেষণার শিরোনাম ছিল ‘ইকোনমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউসহোল্ড লেভেল ইন মিড ২০২৫’।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, শুধু সাধারণ দারিদ্র্য নয়, অতি দারিদ্র্যের হারও বেড়েছে। ২০২২ সালে যেখানে অতি দরিদ্র মানুষের হার ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশে।
গবেষণাটি গত মে মাসে পরিচালিত হয়। এতে দেশের ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের ৩৩ হাজার ২০৭ ব্যক্তির মতামত নেওয়া হয়। ফলাফলে দেখা যায়, শহর ও গ্রামের পরিবারের আয়-ব্যয়ে বৈষম্য তৈরি হয়েছে।
শহরের একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় এখন ৪০ হাজার ৫৭৮ টাকা, কিন্তু খরচ দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৯৬১ টাকায়। অথচ ২০২২ সালে শহরের গড় আয় ছিল ৪৫ হাজার ৫৭৮ টাকা। অর্থাৎ শহরের মানুষের আয় কমলেও খরচ বেড়েছে।
অন্যদিকে গ্রামীণ পরিবারের গড় আয় বেড়ে হয়েছে ২৯ হাজার ২০৫ টাকা, আর খরচ ২৭ হাজার ১৬২ টাকা। ২০২২ সালে গ্রামীণ গড় আয় ছিল ২৬ হাজার ১৬৩ টাকা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুদ্রাস্ফীতি, মূল্যস্ফীতি, আয় কমে যাওয়া ও কর্মসংস্থানের সংকট দারিদ্র্য বৃদ্ধির বড় কারণ। শহরের মধ্যবিত্ত শ্রেণি আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রামীণ এলাকায় আয় কিছুটা বাড়লেও তা জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামাল দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।