ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ক্ষয়-ক্ষতি ও হতাহত
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী তেল আবিব শহরে একটি…
মেলবোর্ন, ২৭ আগষ্ট- ভারতের ওপর মার্কিন প্রশাসনের আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্ককে অভিশাপ নয়, বরং আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিল্লিতে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তিনি বলেন, “এটি ভারতের সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এক ধরনের দীপাবলি উপহার। এখন সময় এসেছে, আমরা নিজেদের উৎপাদিত পণ্য ব্যবহার করব এবং আত্মসম্মানের কারণে স্বনির্ভর হবো।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর একের পর এক শুল্ক আরোপ করেন। রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি ও অস্ত্র কেনার কারণে সম্প্রতি আরও ২৫ শতাংশ বাড়তি শুল্ক যোগ হয়। সব মিলিয়ে ভারতের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ। ফলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়েও দিল্লি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি শুল্কের চাপ বহন করছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখনো ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও শুল্কের প্রভাবে হীরা, পোশাক, চিংড়ি থেকে শুরু করে নানা খাতের লাখো মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মোদির স্বনির্ভরতার বার্তা মূলত ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব।
মোদি দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের দোকানের সামনে ‘মেইড ইন ইন্ডিয়া’ বা ‘স্বদেশি’ সাইনবোর্ড টাঙানোর আহ্বান জানান। তার ভাষায়, “আমরা দুর্দশা নিয়ে কাঁদব না। বিশ্ব যখন অর্থনৈতিক স্বার্থপরতার পথে হাঁটছে, তখন আমরা নিজেদের শক্তিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো।”
শুল্ক সংকটের প্রেক্ষিতে ভারত সরকার কর ছাড় ও ভোক্তানির্ভর প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। চলতি বাজেটে প্রায় ১২০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমমূল্যের আয়কর ছাড়ের পর এখন পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। মোদির ভাষায়, অর্থমন্ত্রণালয় শিগগিরই দুই স্তরের সরলীকৃত জিএসটি প্রস্তাব উপস্থাপন করবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আয়কর ছাড় ও জিএসটি সংস্কার মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার কোটি ডলারের সমমূল্যের প্রণোদনা ভোগব্যয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ ভারতের জিডিপির প্রায় ৬০ শতাংশই আসে ব্যক্তিগত ভোগব্যয় থেকে।
সাধারণ ভোগ্যপণ্যের খাত যেমন ছোট গাড়ি, স্কুটার, পোশাক ও সিমেন্টে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে, বিশেষ করে দীপাবলির সময়। কর ছাড় থেকে এই খাতগুলো সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যেই সুদের হার ১ শতাংশ কমিয়েছে, যা ঋণপ্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করবে। আগামী বছরের শুরুতে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন বাড়ানোও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
শুল্ক সংকট চলমান থাকলেও ভারতের ঋণমান উন্নীত করেছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল, প্রায় ১৮ বছর পর এমন অগ্রগতি হলো। এতে সরকারের ঋণ গ্রহণের খরচ কমবে এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। উৎপাদন খাত জিডিপির মাত্র ১৫ শতাংশে স্থবির হয়ে আছে। বেকারত্ব ও নগর অর্থনীতিতে দুর্বলতা ভোগব্যয় কমিয়েছে। এর পাশাপাশি, রুশ জ্বালানি আমদানি নিয়ে দিল্লি-ওয়াশিংটনের সম্পর্ক তিক্ত হয়েছে, স্থগিত হয়েছে বাণিজ্য আলোচনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যত এক ধরনের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, যা কয়েক মাস আগেও অচিন্তনীয় ছিল। তবুও মোদি এই সংকটকে সুযোগে রূপ দিতে চাইছেন—দেশকে আরও বেশি ‘স্বনির্ভর ভারত’-এর পথে এগিয়ে নিতে।
সুত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au